নজর২৪ ডেস্ক- করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোরতম বিধিনিষেধ শেষ হচ্ছে ৫ আগস্ট। এরপর কী হবে, তা নিয়ে দোটানায় সরকার। এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না সরকারের কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।
তবে অর্থনীতি, জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনায় নিয়ে সামনে আর লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ না দেয়ার পক্ষে সরকারের একটি অংশ। তারা বলছেন, করোনা প্রতিরোধী টিকার সংস্থান হওয়ায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছে সরকার। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে চলার শর্তে ৫ আগস্টের পর শাটডাউন তুলে দেয়া উচিত।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা চলমান লকডাউন দীর্ঘায়িত করার পক্ষে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোববার বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো অতিরিক্ত জনসংখ্যার দেশে লকডাউন দিয়ে তা বাস্তবায়ন করা খুব মুশকিল। দেখলেন তো মাঠে আর্মি নামিয়েও কাজ হচ্ছে না। মানুষ বাইরে আসছেই। কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না।’
আরেক কর্মকর্তা বললেন, ‘আমাদের মতো অর্থনীতির দেশে দিনের পর দিন এভাবে সব বন্ধ রেখে চলা সম্ভব নয়। অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়ার মতো চ্যালেঞ্জ নেয়ার ক্ষমতা এখনও আমাদের নেই। এটা বাস্তবতা। মানুষকে কাজের সুযোগ দিতে হবে, আয়ের সুযোগ দিতে হবে। নতুবা পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারে।’
নিম্নবিত্ত কিছু ত্রাণ পেয়ে কোনো রকম চললেও মধ্যবিত্তের অবস্থা নিয়ে সরকার বিচলিত বলেও জানান এই দুই কর্মকর্তা।
অর্থনীতি যে সরকারের মাথাব্যথার বড় কারণ, তার প্রমাণ মিলেছে চলমান লকডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে। ফলে ঢাকামুখী হয়েছেন শ্রমিকরা। তাদের ভোগান্তি কমাতে খুলে দেয়া হয়েছে গণপরিবহন ও নৌযান। তবে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এতে করোনা সংক্রমণ আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউন বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশে এখনও করোনার ঊর্ধ্বমুখী অবস্থা চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা তো এখনও করোনা ফ্রি হইনি। বিধিনিষেধ অবশ্যই থাকতে হবে। বিধিনিষেধের মধ্যেই তা মেনে কাজ করতে হবে।
রবিবার মন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তারা স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। ফলে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়বে। জীবনের জন্য জীবিকার দরকার হয়। সরকারকে সবকিছুই ভাবতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘এখন দেশের উত্তরাঞ্চলে সংক্রমণ কম। মধ্যাঞ্চলে সংক্রমণ স্থিতিশীল। পূর্বাঞ্চল তথা কুমিল্লায় বাড়ছে। কিন্তু হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে করোনায় আক্রান্তদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ মৃত্যুবরণ করে। আমাদের জীবনের জন্য জীবিকার দরকার আছে। আবার জীবিকার জন্য তো জীবনও থাকতে হবে। আমাদের এই দুটো ব্যালেন্স করতে হয়। সরকারের সে ব্যালেন্স করে চলতে হয় কিন্তু ব্যালেন্স সবসময় রাখা যায় না।
