নজর২৪ ডেস্ক- দীর্ঘ ২২ বছর পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাসায় গেলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। এ সময় আইভীকে সান্ত্বনা দিয়ে সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান শামীম ওসমান।
মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তার দেওভোগের বাড়ি চুনকা কুটিরে যান শামীম ওসমান।
এর আগে বিকেলে মাসদাইরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মেয়র আইভীর মাতা মমতাজ বেগমের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন তিনি।
আইভীর বাড়িতে প্রবেশ করেই সেখানে আইভীর দুই ভাই ও বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান নগরপিতাখ্যাত আলী আহাম্মদ চুনকার দুই ছেলে আহমেদ আলী রেজা উজ্জ্বল ও আলী রেজা রিপনকে সান্ত্বনা দেন। তাদেরকে এই শোক সহ্য করার ধৈর্য যেন আল্লাহ দেন সেজন্য দোয়া করেন তিনি।
এসময় আইভীর পাশে বসে শামীম ওসমান বলেন, ‘সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। চাচি খুব ভালো মানুষ ছিলেন, আল্লাহওয়ালা ছিলেন। আমি চাচির জন্য দোয়া করি। আমাদের উচিত সবাই সবার জন্য দোয়া করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১৯৯৬ সালে যখন এমপি হই, তখন এই চুনকা সড়ক (প্রয়াত আলী আহাম্মদ চুনকা, আইভীর পিতা) করে দিই। ওই সময় আমি এ এলাকায় আসলে চাচি আমাকে নিজ হাতে খাওয়াতেন। আমাদের এখন তার জন্য দোয়া করতে হবে। আমিও এতিম, আমি বুঝি এতিম হওয়াটা কত কষ্টের, সেটা যেই বয়সেই হই না কেন।’
শামীম ওসমানের সঙ্গে এ সময় সেখানে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াসিন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীসহ সিনিয়র নেতারা।
শামীম ওসমান বেশ কিছুক্ষণ সেখানে বসেন। এ সময় সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘আগামী শনিবার (৩১ জুলাই) বাদ আসর দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হবে। আমাদের মসজিদে আপনারা আসবেন।’
পরে শামীম ওসমান তার সঙ্গে সেখানে যাওয়া দলের নেতাকর্মীদের জানান, ‘শনিবার চাচির মিলাদ, আপনারা মাস্ক পরে এখানে আসবেন।’
এর আগে কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের শামীম ওসমান বলেন, ‘মৃত মানুষের কোনো পরিচয় নেই। আমি মনে করি, আমার এখানে আরও আগে আসা উচিত ছিল। কিন্তু আপনারা জানেন, আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ। আজকে আপনাদের সকলের দোয়ায় একটু ভালো অবস্থায় আছেন।’
