নজর২৪ ডেস্ক- গত ৫ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধর্ম প্রচারক মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুনবীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন এই দীনের দাঈ।
আজ শুক্রবার (১৬ জুলাই) সকালে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে গুনবীকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়। ১০ দিন আগে নোয়াখালী থেকে তুলে আনার অভিযোগ থাকা এই ধর্মীয় বক্তাকে বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব।
র্যাব বলছে, মাহমুদুল হাসান গুনবী ওয়াজ করে পরিচিতি লাভ করলেও তিনি বর্তমানে আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা।
র্যাব আরও বলছে, গুনবী ‘মানহাজি’ নামের একটি গ্রুপের অন্যতম ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছিলেন। তার সঙ্গে মাওলানা হারুন ইজহার ও আলী হাসান ওসামা নামে আরও দুজন দায়িত্বশীল হিসেবে কাজ করতেন। এই দুজন আগেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
এদিন বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা ছিলেন মাহমুদ হাসান গুনবি। তিনি ধর্মীয় অপব্যাখা দিয়ে ভয়ভীতি তৈরি, স্বাভাবিক জীবন সম্পর্কে বিতৃষ্ণা করে তোলা, সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ে থেকে দূরে থাকার কথা বলে উগ্রবাদী চেতনার বীজ বুনাতেন।
হুজি, আনসার আল বাংলা টিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি দাওয়াতর ইসলামের ব্যানারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ধর্ম পরিবতনের উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকা মসজিদেও উগ্রবাদী ওয়াজ করতেন গুনবী।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘দাওয়াতে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এসব সংগঠনের আড়ালে তরুণদের টার্গেট করতেন তিনি (গুনবী)। এরপর তাদের পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে পরিবার, স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতো। এবং এই সময়ে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা, স্বাভাবিক জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি করে এসব তরুণদের জঙ্গিতে পরিণত করতেন।’
বিভিন্ন ওয়াজে বক্তব্যের মাধ্যমে গুনবী তরুণদের উগ্রবাদে আকৃষ্ট করতেন বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা। বলেন, তার মতো যারা মানুষকে আকৃষ্ট করে আসছিল তারা নিজেদের ‘মানহাজী’ বলে পরিচয় দিত।
গুনবীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব জানিয়েছে, গুনবী পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে পড়াশোনার পর মাদ্রাসায় ভর্তি হন। ২০০৮ সালে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া থেকে তাইসির দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন। এরপর ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সজারের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় মতাদর্শের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হন।
২০১০ সাল থেকে তিনি ওয়াজ মাহফিল শুরু করেন। ২০১৪ সাল থেকে ধর্মীয় বক্তব্যে উগ্রবাদ প্রচার শুরু করেন। তিনি ধর্মীয় পুস্তকের ব্যবসাতেও জড়িত ছিলেন।
