হারের পর আর্জেন্টিনার সমালোচনায় মুখর ব্রাজিল অধিনায়ক সিলভা

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- একবার-দুই বার নয়, সবশেষ ৬ ফাইনালেই হতাশ হতে হয়েছে আর্জেন্টিনার। লিওনেল মেসি একাই ব্যর্থ হয়েছেন চার ফাইনালে। এবার আর ভাগ্য প্রতারণা করল না। ফাইনালে ব্রাজিলকে পেয়েও বাজিমাত। ২৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে আর্জেন্টিনার।

 

বাংলাদেশ সময় সকালে মারাকানা স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার ফাইনালে আনহেল দি মারিয়ার লক্ষ্যভেদে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। তাতে দেশের জার্সিতে অধরা শিরোপা ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির।

 

এদিন প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধে বন্দি হয়ে পড়ে খোলসে। রক্ষণ জমাট রেখে ব্রাজিলের আক্রমণগুলো ভেস্তে দিয়ে গোল হজম না করার দিকে মনোযোগ ছিল তাদের। তাতে মেলে সুমিষ্ট ফলও।

 

তবে ফাউলের ছড়াছড়ির ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার খেলার কৌশলের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ব্রাজিল অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা।

 

গোটা ম্যাচে মাত্র ৪০ শতাংশ সময়ে আর্জেন্টিনার পায়ে বল ছিল। বাকিটা সময়ে রাজত্ব করে ব্রাজিল। আক্রমণের সংখ্যাতেও এগিয়ে ছিল তারা। তবে সেলেসাওরা ভাঙতে পারেনি আর্জেন্টিনার মজবুত রক্ষণদেয়াল।

 

তাছাড়া, ম্যাচে ছিল না কোনো ছন্দ। দুই দলের খেলোয়াড়দের আঘাত-পাল্টা আঘাতে বারবার খেলা বন্ধ হয়। আর্জেন্টিনার ১৯টি ফাউলের বিপরীতে ব্রাজিল করে ২২টি।

 

ম্যাচশেষে ফেয়ার প্লে পুরস্কার জেতা সিলভা অভিনন্দন জানাতে ভুল করেননি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে, ‘প্রথমেই আমাদের প্রতিপক্ষকে শুভেচ্ছা জানাতে হবে। বিশেষ করে, প্রথমার্ধে তারা আমাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল।’

 

তবে হেরে যাওয়া নিয়ে কোনো অজুহাত দাঁড় না করালেও প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক খেলার ধরন নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন তিনি, ‘কেবল একটা দলই (ব্রাজিল) খেলতে চেয়েছিল। আমরা জানতাম যে, এরকম একটা ফাঁদ থাকবে। কিন্তু আমরা কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে চাচ্ছি না। বারবার থামছে-চালু হচ্ছে, এরকম একটা ম্যাচ খেলা কঠিন।’

 

তিতের অধীনে গতবার দেশের মাটিতেই কোপা আমেরিকায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। এবার তারা পারেনি শিরোপা ধরে রাখতে। কঠিন লাগলেও ফাইনালের ফল মেনে নিচ্ছেন ব্রাজিল কোচ, ‘যত কষ্ট আর কঠিনই হোক না কেন, আমাদেরকে হার স্বীকার করার মতো উদার হতে হবে।’

 

এর আগে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ওঠার আগে এগিয়ে এসে মেসিকে অভিনন্দন জানান নেইমার। শিরোপা জয়ের অভিনন্দন জানাতে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন মেসিকে। মেসিও প্রিয় বন্ধুকে মনে হয় যেন দীর্ঘদিন পর কাছে পেলেন। জড়িয়েই ধরে রাখলেন দীর্ঘক্ষণ। এক আবেগঘণ দৃশ্যের অবতারণা হলো তখন।

 

পুরস্কার বিতরণের পর দেখা গেলো আরও একটি মধুর দৃশ্য। মেসি এবং নেইমার দু’জনই মিশে গেলেন একই রঙে। দু’জনের কারো গায়ে ছিল না কোনো জার্সি। জার্সি খুলে পাশাপাশি বসে ছবি তুললেন তারা দু’জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *