ফেঁসে যাচ্ছে ইভ্যালি, মামলার সুপারিশ করলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

নজর২৪ ডেস্ক- সময়ের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

গত ৪ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল থেকে পৃথকভাবে এসব চিঠি পাঠানো হয়।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হাফিজুর রহমান বুধবার (০৭ জুলাই) ইভ্যালির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিঠি দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গণমাধ্যমে বলেন, ইভ্যালির উপর পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। গ্রাহক ও মার্চেন্টদের বিপুল পরিমাণ অর্থের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ যাতে আত্মসাত বা অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রতিযোগিতা কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

 

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোক্তা ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে ইভ্যালি যে টাকা অগ্রিম নিয়েছে, তা পরিশোধ করতে হবে। মাত্র তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করবো। শুধু ইভ্যালিই নয়, অন্য কোনো কোম্পানিও এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে থাকলে, তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় যে, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭.১৮ কোটি টাকা। গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ ২১৩.৯৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের নিকট হতে ১৮৯.৮৫ কোটি টাকার মালামাল বাকিতে গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৩.৮০ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬৫.১৭ কোটি টাকা।

 

গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির দায়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে আশঙ্কা করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদনে জানায় যে, এ কারণেই ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ কোম্পানির রেপ্লিকা ডাটাবেইজে পরিদর্শন দলকে ঢুকতে দেয়নি।

 

গত ৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক, ভোক্তা অধিকার ও প্রতিযোগিতা কমিশনে পাঠানো চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইভ্যালি ডট কম এর চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬.১৪% গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক এবং মার্চেন্ট এর পাওনা পরিশোধ করা ওই কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে নেওয়া ৩৩৮.৬২ কোটি টাকার কোন হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা আত্মসাত কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।”

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, “গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মার্চেন্টদের কাছে বকেয়া থাকার কথা নয়। কিন্তু বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ইভ্যালির ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটছে। তাই গ্রাহক ও মার্চেন্টদের স্বার্থ রক্ষায় ইভ্যালির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আইনানুগ ব্যবস্থা বা মামলা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *