নজর২৪ ডেস্ক- করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে রাজধানীর আশপাশের সাত জেলায় লকডাউন থাকার কারণে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার পরিবহন। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে গাবতলী বাস টার্মিনালের দালাল চক্রগুলো। প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে চাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থ। যাত্রীরাও নিরুপায় হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকাল থেকে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, একপ্রকার প্রকাশ্যেই চলছে যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি। টার্মিনালে পুলিশি নিরাপত্তা থাকলেও ছিল না তাদের কোনও তৎপরতা। পুলিশের পাশেই প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে করে যাত্রী ওঠানো হচ্ছিল।
টার্মিনালে আসা দূরপাল্লার গন্তব্য যাওয়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে যাত্রী হয়ে যেতে চাইলে বিভিন্ন গন্তব্যের বিষয়ে লোকজনদের অবহিত করেছিলেন হানিফ কাউন্টারের কর্মরত পরিচয় দেওয়া শাহ মাহবুব।
কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, রংপুর পনেরশো, মাগুরা পনেরশো, বগুড়া ১৬শ’, ও রাজশাহী ১৭শ’। কোথায় যাবেন প্রশ্ন করে তিনি ফের বলেন, ‘রাস্তায় পুলিশকে সেট করা আছে, কোনও সমস্যা হবে না’।
গাবতলী বাস টার্মিনালের ভেতরে প্রাইভেট কারে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী ওঠাচ্ছিলেন ইসলাম। রংপুর যেতে চাইলে ভাড়া কত পড়বে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জনপ্রতি পনেরশো টাকা। হায়েস মাইক্রো বাস, ১১ জন যাত্রী নিয়ে চলে যাবে। সকাল থেকে সাত-আটটি মাইক্রোবাস রংপুর-রাজশাহীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। সবগুলোতে যাত্রী ফিলাপ ছিল। আর রাস্তায় কোনও সমস্যা হবে না, আমাদের সব ম্যানেজ করা আছে। পুলিশ জিজ্ঞেস করলে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলবে না, বলবে ড্রাইভারদের সঙ্গে।’
গাবতলী বাস টার্মিনাল এর স্টাফ পরিচয় দেওয়া একজন নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লকডাউনের কারণে বাস চলাচল বন্ধ। ইনকাম বন্ধ। এজন্যই মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে যাত্রী দিলে কিছু টাকা পয়সা পাই।’
আমেনা বেগম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রংপুর যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে ওঠে বসেন। তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজে যেতে হচ্ছে। তাই ভাড়া বেশি দিয়ে হলেও যেতে বাধ্য হচ্ছি। রাস্তায় কোনও সমস্যা হবে না এবং তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারবো।’
গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে করে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে গাবতলী জোনের ট্রাফিক ইনস্পেক্টর কাজী মাহাবুব আলী বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী দূরপাল্লার পরিবহন চলাচলের বিষয়টি নজরদারি করছি।’
তিনি দাবি করেন, কোনও ধরনের অসঙ্গতি পেলেই যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, গাবতলী ফাঁকা থাকলেও আমিনবাজার ব্রিজের উপর থেকে তীব্র যানজট। প্রাইভেটকার ও ট্রাকের জটে মানুষ পায়ে হেঁটেই আমিনবাজার পাড়ি দিচ্ছেন। অন্যদিকে ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার যাত্রী পরিবহন করছে।
গাবতলীতে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সাভার থেকে হাজার হাজার মানুষ আসছে। রাজধানী থেকেও হাজার হাজার মানুষ ওইদিকে যাচ্ছে। আমরা কোনো গাড়ি যেতে দিচ্ছি না। কিন্তু সাধারণ মানুষকে কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, গাবতলীতে যানজট না থাকলেও এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে আমিনবাজারে যানজট লেগে আছে। জরুরি প্রয়োজনীয় গাড়িগুলো আমরা ছেড়ে দিচ্ছি।
সোমবার (২১ জুন) করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ঢাকার আশপাশের চারটিসহ সাতটি জেলায় লকডাউন ঘোষণা করে। জেলাগুলোতে আগামী ৯ দিন জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব ধরনের কার্যক্রম ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই সাত জেলায় লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই ঢাকার সঙ্গে সারাদেশে দূরপাল্লার বাস ও সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাজধানীতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন, শপিংমল খোলা রয়েছে।
