ত্ব-হাকে বাড়িতে লুকিয়ে রেখে মানববন্ধন করেন বন্ধু সিয়াম

নজর২৪, রংপুর- আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে আশ্রয় দেওয়া এবং তার কথা গোপন রাখায় বন্ধু সিয়াম ইবনে শরীফকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি রংপুরে মোবাইল ফোন কোম্পানি অপোর মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

 

গতকাল রোববার দুপুরে সিয়াম নিজেই চাকরি হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ত্ব-হা ইস্যুতে গত শনিবার তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

 

এর আগে, আত্মগোপনে থেকে আলোচিত আবু ত্ব-হা তার দুই সঙ্গী ও গাড়িচালককে নিয়ে বন্ধু সিয়ামের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে আটদিন ছিলেন বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনার জেরেই সিয়ামকে চাকরিচ্যুত করেছে কোম্পানিটি।

 

নাম না প্রকাশের শর্তে ওই কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, সিয়ামের বাড়িতে ত্ব-হার ‘আত্মগোপনে’ থাকা এবং সে নিখোঁজ থাকাকালে তাকে উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার অপরাধে সিয়ামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সিয়াম বলেন, আমার বন্ধু আবু ত্ব-হাসহ চারজন গাইবান্ধায় আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল, এটা আমাকে জানানো হয়নি। এ কারণে ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে আমি নিজেও উদ্বিগ্ন ছিলাম। তাই অন্যান্য বন্ধুদের মতোই ত্ব-হার সন্ধান ও উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছিলাম।

 

সিয়াম বলেন, ‘ত্ব-হা আমার স্কুল-কলেজের ফ্রেন্ড। আমরা রংপুরে একসঙ্গে পড়তাম। সেই থেকে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমার বাসায় সে অসংখ্যবার গেছে। আমি থাকতেও গেছে, না থাকলেও গেছে।

 

‘এবার সে আমার বাড়িতে গেছে, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। যখন সে উদ্ধার হলো, মানে শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলো, তখন আমি জানি। এরপর আমি মাকে বলি, এত বড় ঘটনা তুমি আমাকে জানালে না কেন? আমি মায়ের সঙ্গে রাগ করি। মা তো আসলে জানত না যে, ত্ব-হা এই কাজ করবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ত্ব-হা মাকে বলেছে, আন্টি আমি সমস্যায় পড়েছি, কাউকে কিছু বলিয়েন না। মা সে কারণে হয়তো কাউকে কিছু বলেনি, তিনি বুঝতে পারেননি…। এমনকি আমাকেও বলেনি।’

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সবাই আমাকে আমাকে ভুল বুঝছে। অনেক গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এতে একদিকে আমার ও আমার পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হওয়া প্রয়োজন। আসলে কী ঘটেছে, তা দেশবাসীর কাছে কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *