Home দেশের খবর খুলনা ‘এএসআই আমার ভাগ্নেকে মারলো ক্যা’ বলে হাউমাউ করে কান্না কিশোর মামার

‘এএসআই আমার ভাগ্নেকে মারলো ক্যা’ বলে হাউমাউ করে কান্না কিশোর মামার

0
101

নজর২৪ ডেস্ক- কুষ্টিয়া শহরে প্রকাশ্যে তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সৌমেনকে আটক করেছে পুলিশ। নিজের সার্ভিস রিভলবার দিয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটান এএসআই সৌমেন। ঘটনার সময় ১১টি গুলি করেন তিনি।

 

রোববার (১৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের কাস্টমস মোড়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- শাকিল (২৮), আসমা (২৫) এবং রবিন (৫)। তাদের মধ্যে শাকিল বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার পদে (ডিএসও) চাকরি করতেন। শাকিল কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শাওতা গ্রামের মেসবাহ আলীর ছেলে।

 

নিহত আসমার বাড়ি কুমারখালী উপজেলায়। আসমা খাতুন এএসআই সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। এবং রবিন আসমা খাতুনের আগের পক্ষের সন্তান।

 

আটক সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

এদিকে তিনটি মরদেহ একে একে মর্গের ভেতরে ঢোকানো হচ্ছিল। শেষে যে লাশটি ঢোকানো হয়, সেটি ছয় বছরের শিশু রবিনের লাশ। লাশ দেখে হাউমাউ করে কাঁদছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর—হাসান। মারা যাওয়া রবিন ওই কিশোরের ভাগনে। ভাগনের নিথর দেহ দেখে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সে বলছিল, ‘আমার ভাগ্নেক মারলো ক্যা।’

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে হাসান ভাগনের জন্য কাঁদছিল।

 

নিহত আসমার পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাকিলের সঙ্গে আসমার মুঠোফোনে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

 

মর্গের সামনে বসে কাঁদছিলেন নিহত আসমার মা হাসিনা খাতুন ও ভাই হাসান। হাসান পেশায় রিকশাচালক। কথা হলে সে বলে, তার বোনের আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। ভাগনে রবিন বোনের দ্বিতীয় স্বামীর সন্তান। পাঁচ বছর আগে পুলিশের এএসআই সৌমেনের সঙ্গে বোনের বিয়ে হয়। তার অভিযোগ, সৌমেন কয়েক মাস ধরে তার বোনকে নির্যাতন করতেন।

 

হাসানদের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়। তবে তারা কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী গেট এলাকায় বাস করে। বোন আসমা ও ভাগনে রবিন তাঁদের সঙ্গে থাকতেন। আজ সকালে সৌমেন তার বোন ও ভাগনেকে বাসা থেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে সে জানতে পারে, সৌমেন তার বোন ও ভাগনেকে গুলি করে মেরেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here