নজর২৪ ডেস্ক- পাবনার গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া সেই আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁদের শটগান দুটি থানায় জমা দিয়েছেন।
শনিবার (১২ জুন) রাতে তাঁরা নিজেরাই জেলা সদর থানায় উপস্থিত হয়ে অস্ত্র দুটি জমা দেন। ব্যক্তিগত কাজে জেলার বাইরে থাকবেন বলে অস্ত্র দুটি জমা দিয়েছেন বলে থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
অস্ত্র জমা দেওয়া আওয়ামী লীগের দুই নেতা হলেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু। এদিকে অস্ত্র নিয়ে ‘মহড়া’র ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অস্ত্র জমা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহম্মেদ। তিনি বলেন, গণপূর্ত ভবনে অস্ত্রের মহড়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই গতকাল রাত ১১টার দিকে দুজন থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁদের লাইসেন্স করা শটগান জমা দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন। পরে আবেদন নথিভুক্ত করে শটগান দুটি জমা নেওয়া হয়।
লিখিত আবেদনে কী উল্লেখ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ব্যক্তিগত কাজে জেলার বাইরে থাকবেন। তাই অস্ত্র জমা দিচ্ছেন তাঁরা।
জানতে চাইলে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাসুদ আলম বলেন, ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তবে অস্ত্র হাতে মহড়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বৈধ অস্ত্র হলেও ওভাবে মহড়া দেওয়া আইনের পরিপন্থী। ফলে অস্ত্র দুটির লাইসেন্স বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।
পুলিশ জানায়, গত ৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী রেজা খান মামুন ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে গণপূর্ত ভবনে যান।
দলটি ভিন্ন কক্ষে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খোঁজেন। পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান তারা। কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে তদন্তে নামে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি অবশ্য শোডাউন নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধ অস্ত্র বহন করছিলেন তারা। তবে তদন্তে অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান জানান, শহরের ছাতিয়ানীতে পাবনা গণপূর্তের অফিসে ঢোকার সময় মামুন ও লালুর হাতে শটগান ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ কোনো অভিযোগ না দেয়ায় ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে শুধু পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
প্রথমে জানা না গেলেও রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে জেলাজুড়ে তোলপাড় তৈরি হয়। ওঠে নিন্দার ঝড়। এ ঘটনায় বিব্রত আওয়ামী লীগ নেতারাও। তবে অভিযোগ না থাকায় দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা।
