নজর২৪, দিনাজপুর-রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন দিনাজপুর বিরামপুরের জামাই হওয়ায় আনন্দের বন্যায় ভাসছে এলাকাবাসী। সেখানে জামাই বরণের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের আয়োজনে জামাই রেলমন্ত্রীকে বরণ করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার নতুন বাজার এলাকার অ্যাডভোকেট শাম্মী আকতার মনিকে (৪২) বিয়ে করেছেন। শাম্মী আকতার মনির বাবার নাম মরহুম আব্দুর রহিম। তিনি দুই ভাইয়ের একমাত্র বোন।
গত ৫ জুন শনিবার ইসলামী শরিয়াহ ও বাংলাদেশ সরকারের আইন মেনে ঢাকায় হেয়ার রোডে মন্ত্রীর সরকারি বাসভবন তন্ময়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার সকালে বিরামপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী টুটুল বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রেলমন্ত্রী স্ত্রী শাম্মী আকতার মনির বড় ভাই মো. জাহিদুল ইসলাম মিলনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জাহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আমার বোন শাম্মী ঢাকার উত্তরায় থাকেন। সে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করছে। আইনি বিষয়ে পরমার্শ নিতে কিছুদিন আগে রেলমন্ত্রীর কাছে যায় আমার বোন। আমার বোনকে মন্ত্রীর পছন্দ হয়। পরে পারিবারিক ভাবে আমার বোনকে বিয়ের প্রস্তব দেন মন্ত্রী । উভয় পক্ষের অভিভাবকের সম্মতিতে পারিবারিক ভাবে গত ৫ জুন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে বরপক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুরের বিচারপতি ইজারুল হক ও তার স্ত্রী। কনে পক্ষে আমি ও আমার ভাই উপস্থিত ছিলাম।
তবে কত টাকা দেনমোহর ধার্য হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি। আইন পেশার পাশাপাশি ঢাকায় ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে শাম্মী আকতার এডমিনিস্ট্রেশন অফিসার ছিলেন।
বিরামপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র লিয়াকত আলী টুটুল জানান, আলোচনা ঢাকা থেকে শুরু হলেও তিনি ঘটকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী নিলুফার জাহান ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মারা যান। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তিন সন্তানেরই বিয়ে হয়েছে।
৬৫ বছর বয়সী নূরুল ইসলাম ১৯৫৬ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে জন্মগ্রহণ করেন। পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন থেকে নবম, দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর রেলমন্ত্রী হন তিনি।
রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনও আইনের ছাত্র ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তখন থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িত।
ডাকসুর বিজ্ঞান মিলনায়তন বিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল সিনেট সদস্য, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নুরুল ইসলাম সুজন সুপ্রিম কোর্ট আইনীজীব সমিতির সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন।
