ঢাকা    ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কমিটি গঠনের পর একান্ত সাক্ষাৎকারে ‘সব প্রশ্নের উত্তর’ দিলেন নুরুল ইসলাম

প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

কমিটি গঠনের পর একান্ত সাক্ষাৎকারে ‘সব প্রশ্নের উত্তর’ দিলেন নুরুল ইসলাম

নজর২৪ ডেস্ক- নানা ঘটনায় বিতর্কের মুখে কমিটি বিলুপ্তির দেড় মাসের মধ্যে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম। ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটিতে মামুনুল হকসহ কয়েকজন নেতা বাদ পড়লেও আমির ও মহাসচিব পদে আগের নেতারাই বহাল রয়েছেন।

 

গেল সোমবার ঢাকার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম খিলগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির এবং নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ যারা সাম্প্রতিক সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি।

 

গত ৭ জুন হেফাজতের ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত আলাপে বর্তমান পরিস্থিতিতে হেফাজতের কমিটি গঠন ও প্রাসঙ্গিক নানা বিষয়ে কথা বলেছেন সংগঠনটির নবনির্বাচিত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী।

 

এসময়য় হেফাজত নেতাদের সম্পদের পাহাড় আছে নাকি ‘মুষ্টি’ সম্পদ আছে তা সরকারের তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেন নুরুল ইসলাম জিহাদী। একইসঙ্গে সরকার কারাগারে থাকা নিরীহ আলেমদের মুক্তি দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

হেফাজত মহাসচিব বলেন, হেফাজত নেতাদের কার সম্পদের পরিমাণ কতটুকু অভিযোগগুলো সত্য নাকি অসত্য, তদন্তের পরে বের হবে। কী উদ্দেশ্যে সরকার তদন্ত শুরু করেছে, তা তারা বলতে পারবে। এর সঙ্গে হেফাজতের কমিটি গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। আসলে নেতাদের সম্পদের পাহাড় আছে, নাকি ‘মুষ্টি’ আছে, তা খোঁজাখুঁজি করলেই সরকার বুঝবে।

 

তিনি বলেন, সিনিয়র মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে গত ২৫ এপ্রিল রাতে হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত করেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ওইদিন রাতেই আবার আলোচনা করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করবেন, এটা তখন ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

 

হেফাজতের এই সিনিয়র নেতা বলেন, কমিটি গঠনে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে। তবে, গঠন প্রক্রিয়ায় শুধু আহ্বায়ক কমিটি নেতারাই ছিলেন। কেউ কমিটিতে থাকবেন না, তা এখন পর্যন্ত আমাদের বলেননি।

 

নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, কমিটির আকার বাড়বে। প্রতিটি জেলা কমিটির সভাপতি পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হবে। তখন ৬৪ জেলার একজন করে সদস্য হবেন। সে হিসেবে সদস্য সংখ্যা বাড়বে। আর কাউকে কমিটি থেকে বাদ দিয়েছি, এটা না বলাই ভালো। কারণ আগে ১৫১ জনের কমিটি ছিল, এখন সেটা ৩৩ জন হয়েছে। যারা বাদ পড়েছেন অবশ্যই তাদের আসার সম্ভবনা আছে। এখানকার নিয়ম-কানুন, কমিটির পরামর্শ ও সিদ্ধান্তে যাদের আনা যায়, অবশ্যই তাদের আনবে।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ কয়েকজন কমিটিতে আছেন, এটা ঠিক। তবে তারা কেউ মূল দায়িত্বে নেই। মূল দায়িত্বে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকে না রাখার সিদ্ধান্ত আছে আমাদের। এই কমিটিতে যারা আছেন, সবাই আগের কমিটিতে ছিলেন। আগে কমিটি ছিল ১৫১ জনের। সেখানে থেকে বাছাই করে ৩৩ জনকে নেওয়া হয়েছে।

 

হেফাজতের কমিটি ঘোষণা প্রসঙ্গে বলেন, কমিটি ঘোষণার দিন জুনায়েদ বাবুনগরী অসুস্থ ছিলেন। তা না হলে ঢাকায় তাঁর আসার কথা ছিল। আর প্রধান উপদেষ্টাও আসার জন্য রেডি ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ জ্বর আসার কারণে আসতে পারেননি। তার ছেলে ছিলেন কমিটি গঠনের দিন। আর কমিটি গঠনে সরকারের কোনো প্রভাব নেই।

 

তবে, এখন হয়ত তারা খোঁজ খবর নেবে। এখন একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে পড়েই তো আমরা কমিটি করেছি। কীভাবে করেছি সেটা তো সরকার দেখতেই পারে। কিন্তু আমাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করেনি, তাদের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। আর কমিটিতে সরকার খুশি হওয়া বা না হওয়া তো আমাদের দরকার নেই, আল্লাহ খুশি হওয়া দরকার।

 

হেফাজতের এই কমিটি কি আগের মতো মাঠের কর্মসূচি পালন করবে। আগের মতো বিক্ষোভ, জ্বালা-পোড়াওয়ের কর্মসূচি দেবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনটির নবনির্বাচিত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, তেমন কোনো পরিস্থিতি আসলে, আমাদের কিছু করা লাগলে, করব। তবে ভাঙচুর তো কোনো কর্মসূচি হতে পারে না।

 

আগে ও যেটা হয়েছে সেটা হেফাজতের কর্মসূচির মধ্যে ছিল না। ভাঙচুর, গোলযোগ সৃষ্টি, অগ্নিসংযোগ হেফাজতের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু হয়ে গেছে; কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে তা সরকার খতিয়ে দেখছে। এই ধরনের কর্মসূচি দিতে হলে আমাদের সুরা কমিটি আছে, তারপর কেন্দ্রীয় কমিটি আছে, সবার পরামর্শক্রমে যেটা করা দরকার, করা হবে।