নজর২৪ ডেস্ক- পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ে জড়িতকে গ্রেপ্তারে হন্যে হয়ে ঘুরছেন কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার নাওয়া-খাওয়ার রুটিন নেই এখন, নেই বিশ্রাম।
সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, সেই ব্যক্তি ঘটনাস্থল বিজয় সরণির মুখে স্থাপিত উড়োজাহাজের ভাস্কর্যের নিচে ঘুমাতেন। ঘটনার দিন থেকে তিনি সেখানে নেই।
ছিনতাইয়ের পর থেকে মন্ত্রীর ফোনটি বন্ধ। তাই এর অবস্থান শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে।
ছিনতাইকারীকে ধরতে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিমুজ্জামান হন্যে হয়ে ঘুরছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে বাসা তো ভালো, থানায়ও ঠিক মতো গেছি কি না ঠিক নাই।’
কতটা অগ্রগতি হলো? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অভিযান চলমান। আশা করছি খুব শিগগির তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
জানা যায়, ওই এলাকায় ভবঘুরেদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। তবে ওই এলাকায় সড়কের পাশে ঘুমান, এমন একজন ফোনটি নিয়ে গেছেন, এ বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আ স ম মাহতাব উদ্দিন বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রীর মুঠোফোন ছিনতাইয়ে একজনকে চিহ্নিত করা গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি আমাদের নজরদারিতে আছেন। খুব শিগগির তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব। তার নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে।’
তবে ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ক্যামেরার আওতায় ছিল না। আর আশপাশের এলাকায় স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে বিশ্লেষণ করেও কিছু পায়নি বাহিনীটি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (০১ জুন) পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী তার ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা জানান।
তিনি বলেন, রোববার (৩০ মে) সন্ধ্যায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে যাওয়ার পথে বিজয় সরণিতে গাড়িতে বসে মোবাইল ব্রাউজ করছিলাম। হুট করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই কেউ একজন মোবাইল নিয়ে দৌড় দেয়। ব্রাউজিংয়ে মনোযোগ থাকার কারণে মুহূর্তের মধ্যে কী ঘটেছে তা বুঝতেও কয়েক সেকেন্ড কেটে যায়।
সম্বিৎ ফিরে পেয়ে গাড়িতে থাকা পুলিশের গানম্যানকে বলি আমার মোবাইল নিয়ে গেল। গাড়ি থামিয়ে গানম্যান ওই ছিনতাইকারীর পিছু নিলেও তাকে আর ধরতে পারেনি।
মন্ত্রী বলেন, আমার ছেলে আমেরিকা থেকে ১ হাজার ডলার দিয়ে ফোনটি কিনে পাঠিয়েছে। আমার গাড়িতে পতাকাও ছিলো। তারপরও ছিনতাইকারি মোবাইল ফোনটা নিয়ে গেলো।
এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রীর ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মন্ত্রীরটা নেওয়ার সাহস পেলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা? নিঃসন্দেহে এটি উদ্বেগের কথা। তবে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়।
বুধবার (০২ জুন) সরকারের মন্ত্রিসভার এই জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেন, “অবশ্যই এটা দুঃখজনক এবং পুলিশকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে যে এ সমস্ত গ্যাং… এগুলোর তো একটা চক্র থাকে।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “মন্ত্রীর মোবাইল নিয়েছে বলেই… অবশ্যই প্রশ্ন জাগে যে মন্ত্রীরটা নিলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী? নিঃসন্দেহে এটা উদ্বেগের কথা, কিন্তু আমরা সকলের জন্য উৎকণ্ঠিত। রাস্তাঘাটে যে ছিনতাই একেইবারে হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। হচ্ছে এবং প্রতিকারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।”
দেশে অপরাধ হলেও কোনো অপরাধী ‘পার পাচ্ছে না’ মন্তব্য করে মোজাম্মেল হক বলেন, “দেখেন সব কিন্তু ধরা হচ্ছে।… দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা হচ্ছে।”
