নজর২৪, নোয়াখালী- নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের ‘চামড়া তুলে নেয়ার’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করেছেন বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আব্দুল কাদের মির্জা তার অনুসারীরা।
রোববার সকাল ৯টায় তার নেতৃত্বে মিছিলটি বসুরহাট বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলটি বসুরহাট বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের সময় কাদের মির্জাকে লাঠি হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর, সহকারী কমিশনার ভূমি সুপ্রভাত চাকমা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর জাহেদুল হক রনির প্রত্যাহার দাবি করেন বসুরহাট মেয়র।
সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দিকে ইঙ্গিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানান কাদের মির্জা। অন্যথায় পৌরসভা চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুমকি দেন তিনি।
কাদের মির্জা তার অনুসারীদের নিয়ে স্লোগান দেন, ‘ওসি রইন্যার (ওসি মীর জাহেদুল হক রনি) চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘শামিমের (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামিম কবির) চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘ইউএনওর চামড়া, তুলে নেব আমরা’, ‘ডিসির চামড়া তুলে নেব আমরা’, ‘এসপির চামড়া, তুলে নেব আমরা’।
লাঠি হাতে মিছিলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, এটা আমাদের প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল। গত ৯ মার্চ পৌরসভায় ২ হাজার রাউন্ড গুলি বর্ষণ করা হয়। প্রশাসন আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করে নাই। শনিবার সন্ত্রাসীরা আমার ১৫ জন নেতাকর্মীকে গুলিবিদ্ধ করেছেন, তার বিচার পাইনি। এসবের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে মিছিলে লাঠিসহ অংশগ্রহণ করেছি।
কাদের মির্জা বলেন, এখানে প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। ডিসি-এসপির নির্দেশে টাকার জন্য প্রশাসন তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। ওরা এমপি একরামের রাজত্ব এখানে কায়েম করতে চায়।
কাদের মির্জা তার প্রতিপক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মীদের নাম উল্লেখ করে অনুসারীদের নিজ নিজ এলাকায় সংগঠিত হয়ে মিছিল সমাবেশ করার নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথা এখন বললাম না। আমার সঙ্গে যে সব ওয়াদা করেছেন, সেগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূরণ করেন। না হলে আপনার বিরুদ্ধেও চলবে, আপনার বউয়ের বিরুদ্ধেও চলবে। ছাড়ি (ছেড়ে) দেব না।’
কাদের মির্জা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবের সঙ্গে আমার কিছু দূরত্ব ছিল তাও কেটে গেছে। প্রশাসন আমাকে ও আমার ভাই ওবায়দুল কাদের সাহেবকে সরিয়ে কোম্পানীগঞ্জে একরামের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। প্রশাসন একতরফা তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমরা রক্ত দিয়ে হলেও প্রতিরোধ করবো।’
