Home আলোচিত মামুনুল হকের পক্ষে সাফাই, চাকরি হারালেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা

মামুনুল হকের পক্ষে সাফাই, চাকরি হারালেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা

0
130

নজর২৪ ডেস্ক- কুষ্টিয়ার ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম রাব্বানীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ২৩ মে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম নিশ্চিত করেন।

 

এর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এএসআই গোলাম রাব্বানী হেফাজত নেতা মামুনুল হকের পক্ষে সাফাই গেয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গোলাম রাব্বানীর ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। বক্তব্য দেওয়ার সময় তাঁর পুলিশের পোশাক পরা ছিল। তাঁর গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে।

 

এ ঘটনায় ৪ এপ্রিল অপেশাদার আচরণের অভিযোগে তাঁকে প্রত্যাহার করে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছিল। সে সময় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

 

পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে, গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। তদন্তের যেগুলো প্রক্রিয়া ছিল, তার সব কটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২৩ মে থেকে তিনি আর চাকরিতে নেই।

 

গোলাম রাব্বানী পুলিশ লাইনসের পাশে কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সামনে হ্যান্ডমাইক নিয়ে তিনি উত্তেজনাকর বক্তব্য দেন।

 

দাঁড়ি, মাথায় টুপি,পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত অবস্থায় ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায় এএসআই গোলাম রাব্বানী র‌্যাব-পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বিষোদগার’ করে বক্তব্য রাখছেন। অনেকেই সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দিলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

 

গোলাম রাব্বানী জনগণের উদ্দেশে করে বলেন, আল্লাহ তোমার জন্য যথেষ্ট। কোরআন হাতে নেন। র‌্যাব-পুলিশ সব দৌঁড় মারবে। দেখেন আপনারা আল্লাহকে ছুলে কি হয়? মুসলমানের কাছে দাঁড়ান। র‌্যাব-পুলিশ, এসপি কাউকে দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রকৃত মুসলিম কাউকে ভয় পায় না। মানুষকে মানুষ ভয় পাবে না। এই জান-মাল, ইজ্জত, ধর্ম, স্ত্রী, পুত্র-সন্তান সব বিসর্জন দেব আল্লাহর জন্য।

 

পোশাক পড়ে কথা বলেছি, এটাও পোশাক, ওটাও পোশাক। চোরকে চোর বলা পুলিশের দায়িত্ব। ডাকাতকে ডাকাত বলা পুলিশের দায়িত্ব। আলেমকে আলেম বলা পুলিশের দায়িত্ব। আইন এগুলো মানুষের বানানো। রবের পক্ষ থেকে কোরআন নাজিল। সবাইকে কোরআন মানতে হবে। এই পোশাক আমার গায়ে ছিল। আমি কি এখন পুলিশ দাবি করছি? তিনদিন আগে আমার চাকরি চলে গেছে বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here