নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মামুনুল হকসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনের শীর্ষ ৪৬ নেতার সম্পদের তথ্য চেয়ে চার সরকারি দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ১৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে সংস্থাটি।
ঘটনা তদন্তে দুদক মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সায়ীদ মাহবুব খানের তত্ত্বাবধানে ও পরিচালক আকতার হোসেন আজাদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করে গত ১৭ মে আদেশ জারি করে দুদক।
অনুসন্ধান দলের অন্য সদস্যরা হলেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী, মো. সাইদুজ্জামান ও উপ-সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমান।
আদেশে বলা হয়, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের তহবিল, বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা, ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও ধর্মীয় কাজে বিদেশি সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদক কমিশনার জহুরুল হক এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি। অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, অনুসন্ধানের সময় যা যা করা দরকার, তা করবে টিমের সদস্যরা। যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যাকে প্রয়োজন নেই, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না।
‘আইন অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ না হলে আরও সাত দিন সময় বাড়িয়ে নেয়া যাবে। দুদক কাউকে ছাড় দেবে না। আইনে যা যা আছে, তার ব্যত্যয় ঘটবে না।’
দুদক ইতোমধ্যে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকসহ ৪৬ জনের অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপারে ‘আমলযোগ্য’ তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
এর আগে দুদক হেফাজত ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলের ৫৪ নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছিল। সেখান থেকে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে। বিশেষ করে বিলুপ্ত হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের (গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে) ব্যাংক হিসাবে ছয় কোটি টাকার লেনদেন, মানি লন্ডারিং ও নানা সম্পদের কথা জানা গেছে।
দুদকের তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, মহাসচিব সৈয়দ ফয়জুল করীম, আল-হাইয়্যাতুল উলওয়া বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি মাহমুদুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদসহ কয়েকজন।
