নজর২৪ ডেস্ক- আত্মহত্যার আগে পরপর দুইদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুনিয়ার বাসাতেই ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। এর মধ্যে একদিন দু’জনে বেড়াতে গিয়েছিলেন হাতিরঝিলে। পারিবারিক একটি সূত্র বিষয়য়টি নিশ্চিত করেছে।
মুনিয়ার চাচাত ভাই নাছির হোসেন মুঠোফোনে এক অনলাইন নিউজ পোর্টালকে বলেন, মুনিয়া যেদিন মারা যান তার আগে অথার্ৎ ২৪ এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল পরপর দুই দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনভীর মুনিয়ার বাসাতেই ছিলেন। মৃত্যুর একদিন আগে মুনিয়াকে হাতিরঝিলে বেড়াতে নিয়ে যান আনভীর। তবে হঠাৎ মুনিয়াকে কেন হাতিরঝিলে নিয়ে গিয়েছিলেন আনভীর, বেড়াতে না অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সেই প্রশ্ন এখন স্বজনদের?।
ইতোমধ্যে ভবনটি থেকে উদ্ধার করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষনে পুলিশও নিশ্চিত হয়েছে মুনিয়ার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন সায়েম সাবহান আনভীরের।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘ওই ফ্ল্যাটে তার (আনভীর) যাতায়াত ছিল, সে ব্যাপারে সংগৃহিত ফুটেজে প্রমাণ মিলেছে।’
গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে থেকে কলেজ ছাত্রী মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।
সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। প্রতিমাসে এক লাখ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে সায়েম সোবহান মুনিয়াকে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। আনভীর নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতো। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতো।
মুনিয়ার বোন অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিল। একটি ছবি ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাদের মনে হচ্ছে, মুনিয়া আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
মুনিয়ার একজন আত্মীয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, মুনিয়ার ডায়েরিগুলো পড়ে মনে হয়েছে সে আত্মহত্যা করেনি। বাসার দরজা ভেঙে দেখা যায় তার মৃতদেহ বিছানার উপর হাঁটুভাঙা অবস্থায় ঝুলছিল। দু’পায়ের ঠিক মাঝে ছিল একটি টুল। এ ছাড়া গলায় এবং মুখে খুব গভীর কালসিটে দাগ দেখা গেছে।
যে কক্ষের বিছানায় তাকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে সেই বিছানাও ছিল খুব পরিপাটি। এবং গোছানো। যেগুলো দেখে মনে হওয়ার কথা নয় সে আত্মহত্যা করেছেন। তার লেখা ডায়েরিগুলো এতোটাই পরিপাটিভাবে লেখা ছিল যেখানে পৃষ্ঠা এগারো পড়ে দেখবেন প্লিজ! ৯২তম পৃষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আছে এভাবে সে পর্যায়ক্রমে মার্ক করে ডায়েরি লিখেছে।
ঘটনার একদিন আগে মুনিয়ার বোন জামাই তাকে মুঠোফোনে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন। এটাই ছিল বোন জামাইয়ের সঙ্গে তার সর্বশেষ যোগাযোগ। ওই আত্মীয় জানান, মুনিয়ার জন্য পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য পাত্র দেখছিলেন তার পরিবার। কিন্তু আনভীরের জন্য মুনিয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেয়। ওই আত্মীয়ের দাবি মুনিয়া ছিলেন খুব ধর্মপরায়ণ। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন তার বিশ্বাস হচ্ছে না।
