প্রথমবারের মতো লাইভে এসে সহযোগিতা চাইল হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ

নজর২৪ ডেস্ক- পবিত্র মাহে রমজান মাসে দেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ কওমি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাটহাজারী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসে প্রথমবারের মতো বিশেষ সহযোগিতার আবেদন করেছে।

 

বুধবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাদ্রাসার নিজস্ব ফেসবুক পেইজে লাইভে লিখিত বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে মাদ্রাসার প্রতি সদয় এবং সহযোগিতার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়।

 

এ সময় হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের প্রধান আল্লামা মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী, হেফাজতে ইসলামের আমির ও মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, পরিচালনা পরিষদ সদস্য আল্লামা ইয়াহিয়া, সিনিয়র শিক্ষক মুফতি জসিম উদ্দিন, সরকারি শিক্ষা পরিচালক মাওলানা শোয়েবসহ সিনিয়র শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক ড. নুরুল আফছার আজহারী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৯০ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১২০ বৎসর আল্লাহর রহমত ও দয়া এবং সর্বসাধারণের আর্থিক অনুদান ও সাহায্য-সহযোগিতার উপর ভিত্তি করেই এ জামিয়া ইসলামের নিরলস খেদমত করে আসছে।

 

তবে করোনা পরিস্থিতির জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের কারণে জন চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রতিনিধিরা আপনাদের কাছে গিয়ে মাহে রমজানের জাকাত, ফিতরা ও অন্যান্য দানের অর্থ সংগ্রহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন।

 

আর আল্লাহ না করুন, এবারের রমজানেও যদি জামিয়ার গোরাবা ফাণ্ডে অর্থ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম এবং হাজার হাজার গরীব ও এতিম ছাত্রের ভরণ-পোষণ চালু রাখা সংকটের মুখে পড়তে পারে।

 

এতে বলা হয়, চলমান লকডাউন পরিস্থিতির কারণে এ বছরও মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা হয়তো আপনাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন না।

 

গত বছরের মতো চলতি রমজানেও আপনাদের প্রিয় এই প্রতিষ্ঠানের বিশাল ব্যয় নির্বাহে সহযোগিতার অংশ হিসেবে নিজ নিজ সদকা-ফিতরা, নযর, কাফফারা ও দানের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে বা এলাকাভিত্তিক সম্মিলিতভাবে মাদরাসার ব্যাংক একাউন্ট বা বিকাশ নম্বরে জমা করে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এবং বহুমুখী দ্বীনি খিদমতের ধারা অব্যাহত রাখতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

ফেসবুক লাইভ শেষে বুধবার রাতে এ বিষয়ে পরিচালনা পরিষদের প্রধান মুফতি আব্দুচ্ছালাম চাটগামী স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতিও গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

 

দেওবন্দের পাঠ্যসূচিতে পরিচালিত বাংলাদেশের অন্যতম বড় এবং পুরনো কওমি মাদ্রাসা আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী।

 

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে এখানে ৮ হাজার শিক্ষার্থী এবং ১০০ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। শিক্ষার্থীদের ৪ হাজার ৭০০ জনের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

‘সর্বসাধারণের আর্থিক অনুদান ও সাহায্য-সহযোগিতার’ ওপর ভর করেই মাদ্রাসা পরিচালিত হয় জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “মাহে রমজান কওমি মাদ্রাসাসমূহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। কারণ, সাধারণত এ মাসেই মুসলমানগণ যাকাত, ফিতরাহ আদায় এবং অধিক সাওয়াব অর্জনের আশায় দান-সদকা বেশি করে থাকেন।

 

“আর মাদ্রাসাসমূহের লাখ লাখ গরিব, এতিম ও আর্থিকভাবে অসহায় ছাত্রের ভরণ-পোষণ ও শিক্ষা ব্যয়ের ফান্ডের সিংহভাগ অর্থ এই রমজান মাসেই সংগ্রহ হয়ে থাকে। আর কিছু অংশ সংগ্রহ হয়ে থাকে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রয়ের অর্থ থেকে। যা দিয়ে গরীব-এতিম ছাত্রদের সারা বছরের খোরাকি ও অন্যান্য খরচ নির্বাহ করা হয়।”

 

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গতবছর রোজা ও কোরবানিতে কওমি মাদ্রাসাগুলো অর্থ সংগ্রহ ‘বড় ধরনের সঙ্কেটে’ পড়ে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

 

সেখানে বলা হয়, এবারও রোজার মধ্যে লকডাউনের কারণে ‘জনচলাচল সীমিত হয়ে’ পড়ায় মাদ্রাসার ওস্তাদ ও প্রতিনিধিরা যাকাত, ফিতরা ও অন্যান্য দানের অর্থ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন।

 

“এবারের রমজানেও যদি জামিয়ার (হাটহাজারী মাদ্রাসা) ফান্ডের অর্থ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম এবং হাজার হাজার গরিব ও এতিম ছাত্রের ভরণ-পোষণ চালু রাখা সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে।”

 

এ বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য ‘সামর্থ্য অনুযায়ী অধিক পরিমানে দান-সদকা’ চেয়ে বিবৃতিতে দেশবাসীর উদ্দেশে বলা হয়, “আপনাদের প্রিয় এই প্রতিষ্ঠানের বিশাল ব্যয় নির্বাহে সহযোগিতার অংশ হিসেবে নিজ নিজ সদকা-ফিতরা, নযর, কাফফারা ও দানের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে বা এলাকাভিত্তিক সম্মিলিতভাবে মাদ্রাসার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা বিকাশ নম্বরে জমা করে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এবং বহুমুখী দ্বীনি খিদমতের ধারা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অফুরন্ত সাওয়াব লাভ করবেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *