নজর২৪, নোয়াখালী- সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তার ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, তোমার কারণে আমার একটা ভাই ফাঁসি দিয়ে মারা গেছে। আজকে তোমার স্ত্রী হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তোমার শ্বশুর পক্ষের লোকজন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আমার কর্মীদের চাকরি দেবে বলেছিলে, আজকে একজন কর্মীরও চাকরি হয়নি।
‘কোম্পানীগঞ্জে যে উন্নয়নগুলো হয়েছে সেটা নেত্রীর কারণে হয়েছে। সারা বাংলাদেশে হয়েছে। এখানে কোনো কাজ হয়নি। এখানে এখনো গ্যাস নেই।’
শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় তার অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে মির্জা কাদের এসব কথা বলেন।
কাদের মির্জা আরো বলেন, ‘আমরা তার বাসায় ঢুকতে পারিনা। আমাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এত দুঃখজনক ঘটনা বাংলাদেশে আর কোনো পরিবারে আছে কিনা সন্দেহ আছে। আমার বিরুদ্ধে পুলিশ, প্রশাসন লেলিয়ে দিয়েছে এটা কিসের ইঙ্গিত বহন করে।
আমাকে গ্রেফতার করে কি করবেন গুলি করে মেরে ফেলবেন। আপনার অস্তিত্ব কোম্পানীগঞ্জের মানুষ একদিন শেষ করে ফেলবে। আপনাকেও ছেড়ে দেবে না। কোম্পানীগঞ্জের মাঠিতে এটার সমাধান যদি না হয় আপনি আসতে পারবেন না। প্রয়োজনে আমার রক্ত ঝরবে আমার পরিবারের সদস্যদের রক্ত ঝরবে। আপনাকে কোম্পানীগঞ্জের মাটিতে আর আসতে দেব না।
কাদের মির্জা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের আজকে আমার বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছেন, সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছেন। তিনি তার দুর্নীতিবাজ স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য ব্যস্ত। তবে বাঁচাতে পারবেন না, কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আজ সংবাদপত্রগুলোর মুখ রুদ্ধ করে দিয়েছে। তাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। তারা সত্য ঘটনা এখান থেকে উদঘাটন করেছে। সেটা ওবায়দুল কাদের প্রকাশ করতে দিচ্ছে না। তার কি স্বার্থ। সে কি আমাদের হত্যা করতে চায়। এটার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে দিচ্ছি। ’
এসময় তিনি ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমার পুলিশবাহিনী এবং প্রশাসন সামলাও বলে দিচ্ছি। তুমি জেলে নেবে হত্যা করবে। তোমাকে আমরা ভয় করিনা। তোমার খাইও না পরিও না। ’
আরও পড়ুন-
ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে ককটেল হামলা
নজর২৪, নোয়াখালী- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বড় রাজাপুরের বাড়িতে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল যোগে এসে ককটেল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বাড়ির প্রধান ফটকে তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
এসময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন বের হলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তবে এ হামলায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এসময় কাদের মির্জা বসুরহাট পৌরভবনেই অবস্থান করছিলেন।
বাড়িতে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন পর্যায়ে ৭টা মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা এসে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জার গ্রামের বাড়ির সামনে বসুরহাট-দুধমুখা সড়ক থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন দুই জনের নাম বলেছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
