ঢাকা    ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোপনে বিয়ে করা যায় না : আজাহারী

প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১

গোপনে বিয়ে করা যায় না : আজাহারী

নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক রিসোর্টে এক নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর থেকে দেশব্যাপী এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

 

ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী, কেউ কেউ মামুনুল হকের এমন দবি মেনে নিলেও বাকিরা বলছেন- তিনি বিয়ে যদি করেই থাকেন তবে এ বিষয়ে এমন লুকোচুরি কেন?

 

এনিয়ে ইসলামের নানান ব্যাক্ষ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন অনেকেই। তবে এরইমধ্যে পাওয়া গেলো এ বিষয়ে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর একটি বয়ান।

 

আগের একটি বক্তব্য, যেটি সাম্প্রতিক সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, সেখানে আজহারী বলেন- বিয়ের ঘোষণায় ব্যান্ড পার্টি করতে বলেছেন বিশ্ব নবী (সা.)। কারণ বিয়ে একজন নারী পুরুষের যে সম্পর্ক হয়, জেনা ও ব্যভিচারে একই সম্পর্ক হয়। পার্থক্য হচ্ছে এটার সামাজিক স্বীকৃতি আছে, জেনার স্বীকৃতি নাই। এজন্য বিয়ে গোপন করে করা যায় না। এটা অ্যানাউন্স করে করতে হয়।

 

ইসলামের খলিফাদের জীবন প্রসঙ্গ টেনে এই ইসলামী বক্তা বলেন, ‘ওমর ফারুক (রা.) যখন মদিনার খলিফা বলতেন লুকিয়ে লুকিয়ে যদি কেউ বিয়ে করে তাদের প্রতিবেশিরা যদি তাদের দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে না জানে তাহলে আমি তাদের দুইজনকে জেনার শাস্তি দেব।’

 

পুরোনো এক ওয়াজ মাহফিলের বয়ানের ওই ভিডিওতে আজহারী বলেন, ‘লুকিয়ে বিয়ে করা যায় না, সবাইকে জানিয়ে শুনিয়ে অ্যানাউন্স করে বিয়ে করতে হয়। এজন্য ইসলাম শুধু হারাম বলে জিকির করে নাই। যেখানেই হারাম তার বিপরীতে ইসলামে হালালের বিকল্প দিয়েছে।’

 

এর আগে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে নিজের ফেসবুক পেজে বিয়ের বিষয়টির ব্যাখ্যা করেন মামুনুল হক। দেশের মানুষকে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি এবং ভিন্ন কোনো বক্তব্য না দেওয়ারও আহ্বান জানান।

 

নজর২৪ এর পাঠকদের জন্য মামুনুল হকের লেখাটি তুলে ধরা হলো-

 

একটি মানবিক বিয়ের গল্প

 

‘হাফেজ শহিদুল ইসলাম আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের একজন। সাংগঠনিক কাজে আমার দু-চারজন সহযোগীর অন্যতম। বেশ পুরোনো আমাদের সম্পর্ক। সম্পর্কের গভীরতা পারিবারিক পরিধি পর্যন্ত। পরিবারসহ একে অপরের বাসায় যাতায়াত আমাদের দীর্ঘদিনের।

 

সেই সূত্রে তার পারিবারিক অভিভাবকত্ব করতাম আমি। পারিবারিকভাবে খুঁটিনাটি বিষয়ে পরামর্শের জন্য তারা আমার দ্বারস্থ হত। দুই সন্তানের ছোট সংসার নিয়ে চলছিল তাদের জীবন। একটা পর্যায়ে এসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে শুরু হয় মনোমালিন্য। মনোমালিন্য থেকে বাদানুবাদ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু।

 

আজ থেকে তিন বছর আগের কথা। তখন তাদের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি আমি। তাদের উভয়ের সাথে কথা বলি। কিন্তু কোনভাবেই আর সেটি সম্ভব হয়নি। ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাদের। ছাড়াছাড়ির পর দ্বিতীয় সংসার শুরু করেন হাফেজ শহীদুল ইসলাম। সেই বিবাহ আমি পড়াই। তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করছেন। সেই ঘরে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে আরেকটি সন্তান।

 

অপরদিকে হাফেজ শহীদ ভাইয়ের স্ত্রী হয়ে যায় অনেকটা অসহায়। এক রকমের কূলকিনারাহীন। রাগের মাথায় সংসার ভেঙে গভীর সংকটে পড়ে যান তিনি। ওই পরিস্থিতিতে তার জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি আমার শরণাপন্ন হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ নেন। আর সেই দুঃসময়ে সহযোগিতা করার মত আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না তার।

 

ইসলামী দৃষ্টিকোণ এবং অভিভাবকত্বের জায়গা থেকে আমি তার অর্থনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করি। জীবনের করণীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনার জন্য নিয়মিতই আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে হয় তাকে। এমতাবস্থায় একজন বেগানা নারীর সাথে এভাবে সম্পর্ক রাখাকে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে আমার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই, যত দিন তার অভিভাবকত্বের প্রয়োজন হবে আমার, তাকে বেগানা হিসেবে রেখে অভিভাবকত্ব করবনা, বরং ইসলামী শরীয়তের আলোকে বৈধ একটা সম্পর্ক তৈরি করে নিব।

 

বিষয়টি নিয়ে ঘনিষ্টজনদের সাথে কথা বলি এবং এ বিষয়ে তাদেরকে জানিয়ে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিবাহের কালেমা পড়ে বিবাহ করে নেই। দু বছর যাবত এভাবেই মানবিক ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আমি তার অভিভাবকত্ব করছি এবং একজন অসহায় নারীর দায়িত্ব গ্রহণ করে একটি পুণ্যের কাজ করেছি বলে বিশ্বাস করি। আমি যা বললাম এটা আল্লাহর নামের হাজার বার শপথ করে বলতে পারব। বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য কুল্লামার শপথও করতে পারি ।

 

বিষয়টি খোলাসা করার পরেও যুবলীগ আওয়ামী লীগের গুন্ডারা আমার সাথে যে অমানবিক আচরণ করেছে এবং হামলা করেছে, গায়ে হাত তুলেছে, আমি এর বিচার চাই আল্লাহর কাছে প্রশাসনের কাছে এবং জনগণের কাছে। পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের এই হামলা ও আচরণ প্রমাণ করে বর্তমানে বাংলাদেশে মান-সম্মান কিংবা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করা সম্ভব না।’