নজর২৪ ডেস্ক- বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপ সম্প্রতি আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। এ প্রেক্ষিতে সোমবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে আগামী সাতদিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। কিন্তু দিনের শুরুতেই রাজধানীর কোনো এলাকাতেই তা মানতে দেখা যায়নি নগরবাসীকে।
সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মুল সড়কের পাশের বিপণী বিতানগুলো বন্ধ থাকলেও অলিগলিতে থাকা দোকানপাট প্রায় সবই খোলা। সড়কে বাস চলতে দেখা না গেলেও স্বাভাবিকভাবেই চলছে রিক্সা, সিএনজি অটোরিক্সাসহ ব্যাক্তিগত যানবাহন। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষেও তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্বাস্থ্যবিধি মানাতেও দেখা গেছে উদাসীনতা। অনেককে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা দেখা যায়নি কোথাও।
শান্তিনগর মোড়ে ফ্লাইওভারের নিচে বসেছে বাজার। এতে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি বেশির ভাগ মানুষকে। রাস্তায় চলাচল করতে দেখা গেছে অগণিত মানুষকে।
কারওয়ান বাজার এলাকায় মুল সড়কে কোনো বাস চোখে না পড়লেও প্রচুর রিক্সা-সিএনজি অটোরিক্সা দেখা গেছে। গণপরিবহেন নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও প্রগতি স্মরণিতে কয়েকটি বাসকে যাত্রী তুলতে দেখা যায়। কোনো কোনো সড়কে যানবাহনের চাপে সড়কে ধীরগতিও লক্ষ্য করা যায়।
রাজধানীর কয়েকটি কনস্ট্রাকশন সাইটে নির্মাণ শ্রমিকদের কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই নির্মাণকাজ চালাতে দেখা গেছে। দলে দলে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে গার্মেন্ট কর্মীদের।
এর আগে করোনার সংক্রমণের মুখে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সাধারণ ছুটি’ ঘোষণা করেছিল সরকার। পরে দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়। এবারও সরকারি প্রজ্ঞাপনে লকডাউনের কথা বলা হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি/ চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।’ তবে সংশ্নিষ্টরা বলছেন, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা না হলেও বিধিনিষেধগুলো অনেকটা লকডাউনের সমান। তবে সাত দিনে বিধিনিষেধ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনের সমালোচনা করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
