‘টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া মানে হেফাজত, বাংলাদেশ মানেই হেফাজত’

নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, হেফাজত কারও তল্পিবাহক নয়। মনপুত না হলেই আজ বিএনপির কাল জামায়াতের হয়ে যায় হেফাজত। হেফাজত নিজস্ব শক্তিতে আল্লাহ’র উপর ভরসা করে একাই যথেষ্ট।

 

তিনি বলেন, কারও চোখের গরম ও ভয় দেখিয়ে হেফাজতকে দমিয়ে রাখা যাবে না। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া মানে হেফাজত। বাংলাদেশ মানে হেফাজত।

 

শুক্রবার (২ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।

 

মামুনুল হক বলেন, তিনদিনের হেফাজতের আন্দোলনের ঘটনায় আজ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালন করা হচ্ছে। আমাদের তো এটা করার কথা ছিল না। আজ বাংলাদেশ মেডিকেল পরীক্ষায় ব্যস্ত আছে। কওমি মাদরাসার বড় পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও আজ বিক্ষোভ করছি।

 

তিনি বলেন, যখনই দেশের বিরুদ্ধে, ঈমান-আকিদার বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হবে তখনই হেফাজত কারও রক্তচক্ষু পরোয়া না করে রাজপথে নেমে আসবে।

 

মামুনুল হক বলেন, ২০টি মায়ের বুক খালি হলো। আইজিপি আপনাকে তো শোক প্রকাশ করতে দেখলাম না। কারণ তারা তো মানুষ না হেফাজত। তদন্ত করুন, পুলিশ হেফাজতে থানার গারদে ঢুকে হেফাজতের কর্মীদের ওপর কারা হামলা করছে। হেলমেট লীগের হামলাকারীদের বিচার চাই।

 

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, কেউ যদি চিন্তা করেন, বন্দুকের নল দিয়ে হেফাজত ইসলামকে শান্ত করে ফেলবেন তাদের বলবো, আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমি বিশ্ব মানবাধিকার কর্মীদের কাছে বলতে চাই, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বলতে চাই- যথাযথ তদন্ত করুন। পুলিশি হেফাজতে থাকা আমার কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এসব হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে তারা কীভাবে এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমি তার জবাব চাই।

 

হেফাজতে ইসলামকে কলঙ্কিত করার জন্য নতুন নতুন নাটক সাজানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসাগুলোতে সংরক্ষিত কোরবানির ছুরিগুলো কোন কাজে লাগে জানেন না? এগুলো দিয়ে কী করা হয় আপনারা টের পান না?

 

‘আপনারা যে তামাশা শুরু করেছেন, আগামী দিনে কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা কোরবানির দিনের যে সার্ভিস দেয় সেটা হয়ত বন্ধ করে দিতে হবে। তখন হয়ত আমরা কোরবানির ছুরিগুলো সংরক্ষণ করব না।’

 

হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা জসিম উদ্দিন বলেন, দেশটাকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। প্রতি বিন্দু রক্তের হিসাব নেওয়া হবে। এরশাদ গেছে, খালেদা জিয়াও গেছে, আপনাকেও জেলে যেতে হবে। বেশি দিন দেরি নেই। অপেক্ষা করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *