নজর২৪ ডেস্ক- সময়ে সময়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছে। যার বেশিরভাগই ছড়ানো হয় স্যোশাল মিডিয়াতে। এই কাজে অনেক সময় ব্যবহার করা হয় পুরানো ছবি। এমন সব ছবি ব্যবহার করা হয় যা দেখে মনে হয় সাম্প্রতিককালের ছবি।
হেফাজত ইসলামের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং সমসাময়িক ঘটনার সময়ও দেখা গেছে বেশ কিছু গুজব ছড়ানো হয়েছে বিভিন্ন পুরানো ছবি এবং ভিডিও দিয়ে।
সম্প্রতি ফেসবুকে রামদা হাতে পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তির ছবি ভাইরাল হয়েছে। যাকে হেফাজত ইসলামের কর্মী হিসেবে দেখাতো হয়েছে। রামদা হাতে পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তির ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ব্যক্তিটি হেফাজত ইসলামের কর্মীর। তিনি নাকি গত ২৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতালে রামদা নিয়ে এভাবে অ্যাকশনে ছিলেন। গত ২৯ মার্চ ‘ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের গ্রুপে ছবিসহ একটি পোস্ট করা হয়।

ফ্যাক্ট চেক কোম্পানি বুম বিডির ছবিটি দৃষ্টিগোচর হলে ছবিটি নিয়ে একটি ফ্যাক্ট চেক পোষ্ট করেন। সেখানে তারা বিস্তারিত তুলে ধরেছে।
তারা জানিয়েছে, ছবিটি পুরনো এবং ছবির ব্যক্তিটি হেফাজতে ইসলামের কেউ নন। রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যক্তির ছবিটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক প্রথম আলোর একটি খবরে। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ‘পাকুন্দিয়ায় আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, অস্ত্র নিয়ে মহড়া’ শিরোনামে এক খবরে উক্ত ছবিটি প্রকাশিত হয়।
উক্ত প্রতিবেদনে ছবিটির ক্যাপশনে বলা হয়, ‘সংঘর্ষের সময় রাম–দা নিয়ে ধাওয়া দিচ্ছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল হক। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া থানার পাশে’। অর্থাৎ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত শ্রমিক লীগ নেতার ছবিকে হেফাজত কর্মীর বলে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে।
আরও পড়ুন-
তাণ্ডবে হেফাজত নয়, ভারতীয় গোয়েন্দা জড়িত: ধারণা জাফরুল্লাহর
নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতের ইসলামের হরতালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে ত্রাস চালানো হয়েছে, তার পেছনে মাদ্রাসা ছাত্রদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দিহান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তার সন্দেহ এসবের পেছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর হাত থাকতে পারে।
শুক্রবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের দিন চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি নানা স্থাপনা এমনকি থানা ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মিছিল নিয়ে হামলা চালায় হেফাজত কর্মীরা।

রোববারের (২৮ মার্চ) হরতালে তাদের আক্রমণ ছিল আরও ব্যাপক। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণঞ্জ অংশে সহিংসতা ছিল ব্যাপক।
সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত মহাসড়কে দিনভর ৫০টিরও বেশি গাড়ি ভাঙচুর, বেশ কয়েকটিতে দেয়া হয়েছে আগুন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার সব স্থাপনায় ভাঙচুরের পাশাপাশি দেয়া হয়েছে আগুন। হামলা হয়েছে জেলা পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয়, পুলিশের অবস্থানসহ অন্তত ২০ জায়গায়।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সভায় বক্তব্যে এসব ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন জাফরুল্লাহ।
ওই আলোচনায় তিনি বলেন, “অনেকেই বলছে, জনগণ থানায় আক্রমণ করেছে, সরকারি অফিস আদালতে আক্রমণ করছে। এটা কি রকম ব্যাপার? এর কারণটা কী? এগুলো আর গাড়িঘোড়া পোড়ানোর আমি বিরোধিতা করি। কিন্তু এটা কি তারা (হেফাজতে ইসলাম) পুড়িয়েছে? না ‘র’ পুড়িয়েছে সেটার জন্য একটি নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন আছে।”
পরক্ষণেই জাফরুল্লাহ চৌধুরী আবার বলেছেন, পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তারা রাতের আঁধারে যেভাবে ভোটের বাক্সে ‘ভোট ভরেছে’, তা নিয়ে জনমনে যে ক্ষোভ সেটা থেকে এটা করা হয়ে থাকতে পারে। সহিংসতায় নিহতদের জন্য শোক দিবস পালনের প্রস্তাব করেছেন তিনি। এর সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি নিয়ে একদিন ঢাকায় শোকযাত্রা করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের ‘হত্যা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাফরুল্লাহ। তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
ভারত থেকে মুক্ত না হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু ভারত লাভবান হয়েছে অনেক বেশি।’
নরেন্দ্র মোদির এই সফরেও বাংলাদেশ তেমন কিছু পায়নি বলে মন্তব্য করেন জাফরুল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘অন্ধকার ঘরে রেখে’ তাঁর দৃষ্টি সরিয়ে রাখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনি আপনার বোনকে বরং আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আনেন। শেখ রেহানারও তো অধিকার আছে শেখ মুজিবের কন্যা হিসেবে তাঁরও দায়িত্ব পালনের।’
