কওমি মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কওমি মাদরাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

 

সোমবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে করোনা প্রতিরোধে সরকারের নতুন ১৮ দফা নির্দেশনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী একথা জানান।

 

করোনার মধ্যে অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কওমি মাদরাসায় পাঠদান চলছিল। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ২২ মের পর খুলবে বলে ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এবার কওমি মাদরাসাও বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত দিলো।

 

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার সরকার নতুন করে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে (কমপক্ষে ২ সপ্তাহ) বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কী আছে ১৮ দফা নির্দেশনায়

 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনার উচ্চ সংক্রমণ থাকা এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সীমিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়সহ অন্যান্য জনসমাগম। বিয়ে-জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে এতে।

 

নির্দেশনায় বলা হয়, মসজিদসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে জনসমাগম সীমিত করতে হবে। এ ছাড়াও সব ধরনের মেলা আয়োজনও নিরুৎসাহ দিতে হবে।

 

নির্দেশনায় গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংক্রমিত এলাকাতে আন্তজেলা যান চলাচল সীমিত ও প্রয়োজনে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

 

বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বা নিজ খরচে হোটেলে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

 

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এ ছাড়াও ওষুধের দোকানে মানতে বলা হয়েছে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাস্ক পরাসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

 

শপিং মলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

 

এতে আরো বলা হয়, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা বা আড্ডা দেয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টার পর বাইরে বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে বলা হয়েছে।

 

ঘরের বাইরে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

করোনায় আক্রান্ত ও করোনা লক্ষণযুক্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সংস্পর্শে আসাদেরও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

 

জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা ৫০ ভাগ জনবল দিয়ে পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। ৫৫ বছর বয়সের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘর থেকে কাজ করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

 

এ ছাড়াও সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের তাগিদ দেয়া হয়েছে এতে। সশরীরে উপস্থিত হতে হয় এমন যেকোনো ধরনের গণপরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

 

হোটেল-রেস্তোরাঁয় ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি মানুষের প্রবেশ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ ও অবস্থানের সময় সবসময় মাস্ক পরা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *