নজর২৪, ঢাকা- বায়তুল মোকাররম মসজিদে অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো ধর্মভিত্তিক দলের নেতা-কর্মীরা তালেবানি রাষ্ট্র চায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা।
শুক্রবার (২৫ মার্চ) জুমার নামাজের পর সাড়ে চার ঘণ্টার সংঘর্ষ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বায়তুল মোকাররম মসজিদে অবস্থানকারী বিক্ষোভকারীরা দেশের মর্যাদা চান না। তারা চান, তালেবানি রাষ্ট্র।’
এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন, এটি আমাদের জন্য মর্যাদার। সেই মর্যাদাকে নষ্ট করতে তারা (বিক্ষোভকারীরা) এই সংঘর্ষ করেছে। সত্যিকার অর্থেই তারা রাষ্ট্রের মযার্দা চায় কি না, এ বিষয়ে আমার মনে সন্দেহ আছে। বাংলাদেশ একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হতে চলছে, এটা তারা চায় না। তারা চায় ভিন্ন কিছু। তারা চায় তালেবান ধরনের একটি রাষ্ট্র।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরুদ্ধে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৭২ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ঘটনার পর সাংবাদিকদের বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে এসেছেন। সুতরাং আজকে যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নিরাপত্তাবেষ্টনী ছিল। ভেতরে নামাজ শেষ হলে যখন কিছু মুসল্লি জুতা-স্যান্ডেল দেখিয়ে মিছিল শুরু করেন, তখন অন্য মুসল্লিরা বাধা দেন।
‘তখন দুই ধরনের মুসল্লিদের মধ্যে সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। একটা পর্যায়ে যাঁরা জুতা-স্যান্ডেল দেখিয়েছেন, তাঁরা মসজিদের ভেতরে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। অন্য মুসল্লিরা ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন, ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যান। পুলিশের ওপরও তাঁরা চড়াও হন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয়, এ জন্য রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি আনার চেষ্টা করা হয়।
