নজর২৪ ডেস্ক- স্থানীয় প্রশাসন স্থগিত করে দেওয়ার পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গোপনে ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করেছেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। তবে নির্ধারিত স্থানে তা হয়নি। নির্ধারিত তারিখে হলেও দিনের পরিবর্তে হয়েছে রাতের অন্ধকারে এবং নির্ধারিত স্থানের তিন কিলোমিটার দূরে।
কসবা উপজেলার বাদৈর গ্রামে ছাত্র উলামা ইসলামী সেবা পরিষদ ইসলামী সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। ২০ মার্চ শনিবার সকাল ১০টায় এই সম্মেলন করার কথা ছিল। মুফতি মামুনুল হক প্রধান বক্তা এবং কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবনকে প্রধান অতিথি করে পোস্টার ছাপিয়ে প্রচার করা হয়।
প্রশাসন বিষয়টি টের পেয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় হেফাজত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর ওই সম্মেলন স্থগিত করে দেয় প্রশাসন।
ওই বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলম, কসবা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাহিদ হাসান ও অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলমগীর ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসন উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণে প্রশাসন এ সম্মেলনটি স্থগিত করে দেয়। পরে বাদৈর গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মূলগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামবাড়িতে হেফাজত নেতা মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমীর বাড়িতে গত শনিবার রাতে গোপনে মুফতি মামুনুল প্রায় দেড় ঘণ্টা বয়ান করেন। বয়ান শেষে আবার রাতেই চলে যান।
সৈয়দাবাদ গ্রামের হারুনুর রশীদ নামে এক শ্রোতা বলেন, সেখানে তিনি কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেননি। তবে বয়ানের এক ফাঁকে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেছিলেন বলেই তাড়াতাড়ি এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।
শ্যামবাড়ি গ্রামে মাহফিলের আয়োজক স্থানীয় হেফাজত নেতা মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মাহফিলের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। মুফতি মামুনুল হক বলেছেন তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে মাহফিল করতে এসেছেন।’
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোথায় থেকে কীভাবে অনুমতি নেওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে মাওলানা দায়েমী কিছু জানাতে পারেননি।
উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন বলেন, ‘বাদৈর গ্রামের ইসলামী সম্মেলনটি আলোচনার মাধ্যমে স্থগিত করা হয়েছিল। পরে শ্যামবাড়ি গ্রামে মুফতি মামুনুল হক রাতে এসেছিলেন বলে আমি শুনেছি। তবে আয়োজকরা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেননি।’
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর ভূঁইয়া শনিবার রাতে ওয়াজ মাহফিল হয়েছে স্বীকার করে বলেন, ‘এটা গোপনে করা হয়েছে এবং তারা পরে জানতে পেরেছেন।’
