নজর২৪ ডেস্ক- সাংবাদিকদের অনুরোধ রাখতে গিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মন্ত্রী করোনা টিকা গ্রহণ করেছেন, কি করেননি এর একটি ছবিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্ত্রীর টিকা নেওয়ার একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে। যে ছবিতে বলা হচ্ছে, মন্ত্রী আসলে করোনার টিকা নেননি। তিনি টিকা নেওয়ার অভিনয় করেছেন মাত্র। কিন্তু সেই ছবি গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ের ক্লিনিকে এসে করোনার টিকা গ্রহণ করেন। ক্লিনিকের সিভিল সার্জনের রুমে বসে টিকা নেন তিনি। স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান ও সচিবালয় ক্লিনিকের সিভিল সার্জন এসময় মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী টিকা নিয়ে বেরিয়ে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়াও দেন।
কিন্তু কয়েকটি চ্যানেলের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান মন্ত্রীর টিকা গ্রহণের ছবি না পাওয়ায় তারা মন্ত্রীকে আবারও টিকা গ্রহণের ভঙ্গিতে পোজ দেওয়ার অনুরোধ করেন। সাংবাদিকদের অনুরোধে মন্ত্রী আবারও টিকা গ্রহণের অভিনয় করেন এবং রীতিমতো বিপাকে পড়েন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোজ দেওয়ার ছবিটি পোস্ট করে বলা হচ্ছে- মন্ত্রী করোনার টিকা গ্রহণ করেননি। অভিনয় করেছেন মাত্র।
এদিকে মন্ত্রীর টিকা নেওয়ার আসল ও ভাইরাল হওয়া দুটি ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মন্ত্রী টিকা গ্রহণের সময় টিকাদানকারী নার্স মন্ত্রীর বাম হাতে টিকা দিচ্ছেন। এ সময় টিকা দানকারী নার্সের সহযোগী অপর একজন নার্স মন্ত্রীর ডান দিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে অভিনয় করা ভিডিওতে ওই সহকারী নার্সকে মন্ত্রীর বাম পাশে টিকাদানারী নার্সের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিষয়টি নজরে এলে শনিবার (১৩ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রীর একটি ব্যাখ্যা সম্বলিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ক্লিনিক ভবনে করোনা টিকা গ্রহণ করেন। সাংবাদিকরা সে সময় ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেন। তবে টিকা দেওয়ার কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় উপস্থিত সাংবাদিকরা কেউ কেউ ছবি ও ভিডিও ফুটেজ নিতে পারেননি। পরে ক্যামেরাপারসনরা অনুরোধ করলে মন্ত্রী টিকা নেওয়ার পর তাদের ছবি ও ভিডিও নেওয়ার সুযোগ দেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর টিকা নেওয়া বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিও এডিট করে মন্ত্রী টিকা নেননি বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও এডিট করে মন্ত্রী টিকা নেননি বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রী মহলের মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী তথা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের অংশ। ভিডিও সম্পাদন করে এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার যারা চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও মন্ত্রী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।
যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, সেদিন তিনি ঠিকই টিকা নেন। এর ভিডিও এবং ছবিও তুলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু তাঁর টিকা নেওয়া শেষ হওয়ার পর সেখানে আরও দুজন টিভি সাংবাদিক আসেন। তাঁরা মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যে, তাঁরা টিকাগ্রহণের ছবি পাননি। মন্ত্রী যদি ‘টিকা দেওয়া হচ্ছে’ এমন করে একটু বসেন, তাহলে তাঁরা ভিডিও ও ছবি নিতে পারেন।
আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ওই দুজন সাংবাদিকের অনুরোধেই আমি সরল বিশ্বাসে পুনরায় চেয়ারে গিয়ে বসি। সেখানে তখন আরও সাংবাদিক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন। আমি চেয়ারে বসার পর তাঁরা ভিডিও করেন।’
সেই ভিডিওটিই ভাইরাল হয়েছে দাবি করেন মন্ত্রী। ভিডিওটি দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি দেখে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। কারণ, এই ভিডিওটির বার্তা ভুয়া। টিকা নেওয়ার অরজিনাল ভিডিওটি ভাইরাল হলো না, অথচ একটি ভিডিওকে ভাইরাল করে ভুল ও মিথ্যা বার্তা দেওয়া হলো, যা উচিত হয়নি। এটা নিন্দনীয়।’
টিকা গ্রহণের সময় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি যখন টিকা গ্রহণ করি তখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনেক সাংবাদিকও ছিলেন। আপনি তাঁদের কাছেও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেন।’
