নজর২৪ ডেস্ক- আজ ২১ ফেব্রুয়ারি। মহান ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। হাতে হাতে বসন্তে ফোটা ফুল নিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন। দিবসটি পালনে করোনাকাল হওয়ায় বরাবরের মত আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার ঘাটতি থাকছে না।
রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি একুশের মহান শহীদদের প্রতি এদিন শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে সমবেত হচ্ছে সবাই। তবে করোনার কারণে সব কিছেই হচ্ছে এবার স্বল্প পরিসরে।
বলা যায় এই দিনেই বাঙালি জাতি সব ধরনের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে প্রথমবারের মতো নিজের আত্মপরিচয়কে প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেছিল রাজপথের আন্দোলন, যা ছিল স্বাধিকারের লড়াইয়ের সূচনা। পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনই এই জাতিকে শোষণের নাগপাশ ছিন্ন করে নিজের দেশ, স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন করতে প্রেরণা জুগিয়েছে। আর একুশের সেই মাতৃভাষাকে রক্ষার চেতনাই এ দেশের মানুষকে পৃথিবীর বুকে বাঙালি হিসেবে দিয়েছে বিশেষ মর্যাদা।
বুকের তাজা রক্তে যে একুশ, তা একদিনে আসেনি। দেশভাগের পর থেকেই ডাকটিকিট, মুদ্রা, পোস্টকার্ডে ছিল উর্দুর একাধিপত্য। তাই নতুন রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। ছাত্র থেকে শুরু করে সাহিত্যিক, শিক্ষকসহ সুশীল সমাজও বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করেন। গঠিত হয়েছিল বেশ কয়েকটি সংগঠনও। তখনই গঠিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ।’
সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভাষার জন্য লড়াইয়ের এসব সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাতির জনক কারাবরণ করলেও কারাগার থেকেই রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন বেগবান করতে ভূমিকা রাখতে থাকেন তিনি।
