নজর২৪, ঢাকা- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কি টাকার এত অভাব যে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ বিভিন্ন কোম্পানী বা সংগঠনের কাছে ভাড়া দিতে হবে? প্রায় ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, তাও কেনো ভাড়া দিয়ে টাকা আয় করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সুমন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আর বাকি আছে শুধু কেন্দ্রীয় মসজিদটা ভাড়া দেয়া। যদি সুযোগ পান তাহলে কেন্দ্রীয় মসজিদটাও ভাড়া দিয়ে দিবেন আপনারা। ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের মাননীয় উপাচার্যের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ উম্মুক্ত করে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।
ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর আন্ত ওয়ার্ড ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। প্রায় ৪০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এটা। ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলা করার জন্য উম্মুক্ত থাকার কথা এ মাঠ। দূঃখের বিষয় হচ্ছে ব্যবসার জন্য বারবার এটা ব্যাংক, ইনসুরেন্স, আরও অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেয়া হয়। বছরের বেশিরভাগ সময় এ মাঠটি ভাড়া দেয়াই থাকে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে ঢাকা শহরে খেলাধুলা করার জন্য খুব কম মাঠ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছোট ছোট কিছু মাঠ রয়েছে। যা খেলাধুলা করার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমার দূঃখ লাগতেছে এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ দেশের সকল আন্দোলনের সূতিকাগার বলা হয় যে প্রতিষ্ঠানকে। গবেষণার জায়গা বলা হয় যেটাকে। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কি টাকার এত অভাব পড়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ বিভিন্ন কোম্পানী বা সংগঠনের কাছে ভাড়া দিতে হবে? আমার লজ্জা লাগে যে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।
ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ে ছাত্র রাজনীতির অনেকগুলো দল রয়েছে। ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, বাম সংগঠনসহ অনেকগুলো ছাত্র সংগঠন আছে। যাদের কাজ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ও কথা বলা। কিন্তু তাদের তো কখনো কথা বলতে দেখি না। আপনারা কখন কথা বলবেন? দলমত নির্বিশেষে কথা বলতে হবে আমাদেরকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কোনো ব্যাংক, ইন্সুরেন্স ভাড়া নিয়ে তারা খেলাধুলা করবে আর আমাদের ছেলে মেয়েরা মাদকে জড়িয়ে যাবে, বসে বসে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়বে তা চলতে দেয়া যায় না।
