নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।
তিনি বলেন, আল জাজিরার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ অসৎ। কারণ সেদিন আমার ভাইদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। কোনো সাজা ছিল না। আগেই তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, “এতটুকু আমি আপনাদেরকে বলতে পারি, আমি সেনাপ্রধান হিসেবে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি, আমার অবস্থান, আমার দায়িত্ব সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। কী করলে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে, কী করলে সেনাবাহিনীতে আমার যে দায়িত্ববোধ, আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়াটা হয়েছে, সেটা খর্ব হতে পারে, আমি সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।
“আমার ভাইয়ের সঙ্গে যখন মালয়েশিয়াতে দেখা করেছি, তখন তার নামে কোনো মামলা ছিল না। যে একটা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ছিল, সেটা থেকে অলরেডি অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছিল। সেই অব্যাহতি মার্চ মাসে হয়েছিল। আমি এপ্রিল মাসে গিয়েছিলাম। এখানে আল-জাজিরা যে স্টেটমেন্টটা দিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে দিয়েছে। কারণ সেদিন আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে, আমি যদি বলি, সেদিন না কোনো সাজা ছিল, না তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল। তার আগেই যে মামলাটা ছিল, সেটা থেকে তাদেরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, “সেকেন্ড যে জিনিসটা হল যে, বিভিন্ন সময়, আপনি যেটা বললেন যে, বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় আমার যে চিত্র ধারণ করা হয়েছে, আমি সেনাপ্রধান হিসেবে মনে করি, যখন আমি অফিসিয়াল ক্যাপাসিটিতে কোথাও থাকব, তখন আমার নিরাপত্তা সেটা হলো অফিসিয়ালি নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। আমি যেখানেই যাই, সেটা হোস্ট কান্ট্রি করে থাকে। সেখানে আমার অতিরিক্ত কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
“কিন্তু, যখন আমি কোথাও আমার ব্যক্তিগত সফরে থাকি, হয়তো আসার সময় ট্রানজিটে কোনো আত্মীয়-স্বজনের কাছে যাই, সেই সময় অফিসিয়াল কোনো প্রোটোকল আমার ব্যবহার করা, আমি সেটা কখনো সমীচীন মনে করি না। আমি মনে করি সেটা অপচয় এবং সেটা আমার উচিত নয়। সেক্ষেত্রে সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি কিছু করে থাকে, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য, সেটা আপনারা তো এখন ভালো করেই জানেন এবং আমাদের রিজয়েন্ডার পাওয়ার পরে আপনারা বুঝতে পারছেন, যারা এ কাজগুলো করেছে, কেন করেছে, তাদের উদ্দেশ্যটা কী হতে পারে।”
সেনাপ্রধান বলেন, “আপনারা প্রশ্ন করেছেন, বারবার কেন আমাকে টার্গেট করা হয়। আমার মনে হয় সেটার দায়িত্ব আমি আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। আপনারাই বুঝে নেন, খুঁজে নেন, কেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানকে টার্গেট করা হচ্ছে।
“কারণ, এই সেনাপ্রধানকে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন। সেনাপ্রধানকে হেয় প্রতিপন্ন করা মানে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করা। আপনাদেরকে এই জিনিসটা বুঝতে হবে।”
জেনারেল আজিজ বলেন, “আমি সম্পূর্ণভাবে সচেতন যে, আমার কারণে যদি কখনো আমার ইনস্টিটিউশন, অরগানাইজেশন যেটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং আমাদের সরকার যাতে কোনোভাবে বিব্রত না হয়, বিতর্কিত না হয়, আমি সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন। যা কিছু আপনারা শুনছেন, এগুলোর কোনো প্রমাণ, এগুলো হয়তো বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা কাট-পিস অন্যান্য জিনিস সন্নিবেশিত করে তারা এগুলো করতেই পারে। বাট, তাদের এই উদ্দেশ্য হাসিল হবে না। এবং সেটা আপনারা আপনাদের কলমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তাদেরকে জবাব দিয়েছেন এবং সেজন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
আল জাজিরার প্রতিবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশের যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নও একজন সাংবাদিক করেন।
উত্তরে সেনাপ্রধান বলেন, “কিছু কিছু ব্যাপার আছে যেটা হয়তো যে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তেমন কিছু করার হয়ত থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে। আমি নিশ্চিত, সেটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যারা আছে বা সংস্থা যারা আছে, তারা হয়তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।”





