প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কুবি শিক্ষার্থীদের এনালগ পরিচয়পত্র

রফিক উদ্দিন, কুবি প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা এখনও ব্যবহার করছে এনালগ পরিচয়পত্র।

 

ফলে আট সেমিস্টারের জন্য দেওয়া কার্ড ছয় সেমিস্টার না যেতেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পাতলা কাগজে করা কার্ড সহজেই ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে দাবি উঠেছে শিক্ষার্থীদের স্মার্ট আইডি কার্ড প্রদানের জন্য।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার পর হলের মাধ্যমে হাতে লিখিত কাগজের আইডি কার্ড পান। যার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রদান করতে হয় ১০০ টাকা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ খান হতাশা নিয়ে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্য আইডি কার্ড অতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিকভাবে আইডি কার্ডের মাধ্যমেই প্রকাশ পায় সে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

 

কিন্তু এটা আমাদের দূর্ভাগ্য যে, ডিজিটাল বাংলাদেশের কনসেপ্টে দীর্ঘ ১৫ বছর পরও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট বা উন্নত কোন আইডি কার্ডের বদলে, এখনো এনালগ আইডি কার্ডেরই প্রচলন রয়েছে।

 

দেখা যায়, এনালগ আইডি কার্ড বছর না পেরোতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এই কার্ড নকল হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এনালগ আইডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র, হল কার্ড, লাইব্রেরী কার্ড এসমস্ত আলাদা আলাদা থাকে। কিন্তু স্মার্ট কার্ডে আমরা সকল সুবিধা একত্রে পাবো। তাই, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্ট আইডি কার্ড এখন সময়ের দাবী।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম ব্যাচের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রওনক জাহান এ ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, কুবিতে প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও স্মার্ট কার্ডের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে এনালগ পদ্ধতির পরিচয়পত্র। এটি আসলে কাম্য নয়। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র জনিত সমস্যা সমাধানে যেন দ্রুত স্মার্ট কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।

 

আইডি কার্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘যে স্মার্ট কার্ড দরজার সামনে আসলে অটোমেটিক খোলে যায়, কোড বসানো থাকে সেরকম স্মার্ট কার্ড কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। তবে যে আইডি কার্ড তোমাদের বর্তমানে দেওয়া হয় সেটাকে আরো উন্নত করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।

 

কিছুদিনের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু হবে। রিনিউ করাসহ হার্ড কাভারের সুন্দর কার্ড তোমাদেরকে দেওয়া হবে। ডিজিটাল কার্ডকে স্মার্ট কার্ড বলে। সেটা দেওয়া এই মুহূর্তে সম্ভব না। তবে তোমাদের কার্ডটাকে খুবই শীগ্রই উন্নত করে দেওয়া হবে। আমাদের সিদ্ধান্ত শিক্ষকরা যে কার্ড ব্যবহার করে সেরকম কার্ড দেওয়া হবে।’

 

সেমিস্টার শেষ না হওয়ার আগেই কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এটি করোনার কারণে হয়েছে। কার্ডগুলো রিনিউ করে দিবো। এগুলোর মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন কার্ড দেওয়া হবে।’

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আইডি কার্ডের বিষয়টি দেখছি। ইতোমধ্যে সেমিস্টার শেষ না হওয়ার আগেই আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেটাও জেনেছি। আমরা কমিটি গঠন করে আইডি কার্ডের কাজ করবো।’

 

কতোদিন সময় লাগবে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এটাতো আমি একা পারবো না। কমিটি গঠন করে স্মার্ট কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *