দিহানের প্রকৃত বয়স কত, বিচার হবে শিশু আদালতে?

নজর২৪ ডেস্ক- রহস্যের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে মাস্টারমাইন্ড স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা। ঘটনার দিনই গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত দিহান। আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে দিহানের কলাবাগান বাসার দারোয়ান দুলালকে। উদ্ধার করা হয়েছে বাসাটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। এসবের মধ্যেই তৈরি হয়েছে দিহানের বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি।

 

ফারদিন ইফতেখার দিহানের পরিবারের মতে সে এখনো কিশোর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই তার বয়স আঠারোর নিচে বলে দাবি করছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিহানের বয়স ইতোমধ্যেই ১৮ পার হয়ে গেছে।

 

জানা গেছে, জন্মসনদ অনুযায়ী দিহানের জন্ম তারিখ ২০০২ সালের ২৫ মে। সে হিসেবে ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর সাত মাস।

 

বাংলাদেশের শিশু আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচের বয়সীদের সাধারণত শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। ফৌজদারি কোনও অপরাধে ১৮ বছরের নিচের কেউ জড়িত থাকলে তাকে গ্রেফতার, গ্রেফতার পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় শিশু আইন অনুসরণ করতে হয়। সে হিসেবে দিহানের বয়স ১৮ বছর পার হওয়ায় শিশু আইন প্রতিপালনের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।

 

এ প্রসঙ্গে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার তদন্তে দিহানের বয়স যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত বয়স উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগ-পত্র দেওয়া হবে। বয়স অনুযায়ী আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেবেন।

 

দিহানের পরিবার জানিয়েছে, ২০২০ সালে ধানমন্ডির ম্যাপললিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল সম্পন্ন করে দিহান। বর্তমানে সে জিইডি বা জেনারেল এডুকেশনাল ডেভেলাপমেন্ট পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

 

জন্মসনদ অনুযায়ী, ২০০২ সালের ২৫ মে রাজশাহীর দুর্গাপুর থানাধীন রাতুগ্রামে তার জন্ম হয়। তার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ২০০২৮১১৩১৫৯০০০২২৫। ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিবন্ধন করা হলেও ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি এই সনদ ইস্যু করা হয়। রাজশাহীর দুর্গাপুরের ২ নং কিশমত গণকৈড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা এই জন্ম-সনদ প্রদান করেন।

 

আইন অনুযায়ী দিহানের বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে সে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় শিশু হিসেবে গণ্য হয়ে কিছু সুবিধা পেত। ১৮ বছরের নিচে হলে তার বিচার হতো জুভেনাইল কোর্ট বা শিশু আদালতে। কিন্তু দিহানের বয়স ১৮ বছর অতিক্রম হওয়ার কারণে অন্যান্য সাধারণ অপরাধীর মতো তার বিচার হবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে।

 

আদালত তার অপরাধের মাত্রা ও মোটিফ অনুযায়ী শাস্তি বা দণ্ড নির্ধারণ করবেন। আদালতে ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হলে তার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

 

এদিকে মাস্টারমাইন্ড স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্ধার করা হয়েছে বাসাটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাসাটিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করছিল আনুশকা। এ সময় রহস্যজনক গতিবিধির উপস্থিতি পাওয়া গেছে তিন ব্যক্তির। পুলিশে ধারণা, সর্বগ্রাসী মাদকের পরিণতিতেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

 

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, গত ৭ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ১২ মিনিট। কলাবাগানে দিহানের বাসার সিঁড়িঘরের দিকে যাচ্ছে আনুশকা। দুপুর একটার দিকে বাসার সামনে রহস্যজনক গতিবিধির দেখা মেলে তিন ব্যক্তির। তবে তাদের পরিচয় বোঝার উপায় নেই। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে বাসা থেকে বের হয় দিহানের গাড়ি।

 

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে এমন তথ্য মিললেও এখনও মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। তাই জিজ্ঞাবাসাদের জন্য ওই দিন দায়িত্বে থাকা প্রহরী পলাতক দুলালকে আটক করেছে পুলিশ।

 

এদিকে গণমাধ্যমে খোলা চিঠি লিখলেও অনেক চেষ্টা করেও ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হননি দিহানের মা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *