অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন মামুনুল হকের সমর্থকরা!

নজর২৪, ঢাকা- বন্দির একমাস পর জামিনে মুক্তি পেয়েছে বায়তুল মোকাররম থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থক মাদ্রাসা ছাত্ররা!

 

আজ রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় সিএমএম কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিনে মুক্তি দেন। বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক শরীফ হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মাওলানা শরীফ হোসেন জানান, গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মোট ২৩ জন শিক্ষার্থীকে। এর মাঝে ১৮ জনের জামিন লাভ হয়েছে। এছাড়া বাকি পাঁচজন শিশু হওয়ায় আগামী জানুয়ারিতে তাদের মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তিনি জানান, একসাথেই সবার জামিন লাভ হতো। তবে শিশুদের কোর্ট বন্ধ থাকায় এখনই জামিন হচ্ছেনা এ পাঁচ শিশুর।

 

উল্লেখ্য, ২৭ নভেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টন-শান্তিনগর এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্টন ও রমনা থানায় দুটি মামলা করা হয়।

 

পুলিশের ভাষ্য মতে, জুমার নামাজের ছদ্মবেশে সমবেত হয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিলেন তারা। সেই মিছিলে বাধা দিলে পুলিশ সদস্যদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

 

এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করার প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সম্প্রতি শাহবাগে সমাবেশ করে। সেখানে মামুনুল হকের কুশপুতুল দাহ করা হয়।

 

এর প্রতিবাদ জানাতে বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্ররা শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজের ছদ্মবরণে সমবেত হন। পরে তারা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। তারা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে নাইটেংগেল মোড় হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে ধাওয়া দিলে তারা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং দুই থানা এলাকার আশপাশের বিভিন্ন গলি দিয়ে অনেকে পালিয়ে গেলেও ২৩ জন ধরা পড়ে।

 

গ্রেপ্তার কয়েকজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় বলা হয়, “তারা পুলিশকে বলেছে, ফেইসবুকে ‘সাইখুল হাদিস মুহাম্মদ মামুনুল হক সমর্থক গ্রুপ’ নামের একটি গ্রুপের মাধ্যমে খবর পেয়ে বায়তুল মোকাররমে এসেছিলেন।”

 

একই ধরনের বক্তব্য এসেছে রমনা থানায় দায়ের করা মামলায়। সেখানে নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপের কথা বলা না হলেও ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা পেয়ে বিক্ষোভের জন্য তাদের বায়তুল মোকাররমে সমবেত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *