নজর২৪ ডেস্কঃ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার চান্দিনা থানায় মামলা করা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে তথ্য গোপন করে বিনা দাওয়াতে মাহফিলে অংশ নেয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লার চান্দিনা থানাধীন জোয়াগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় দুই দিনব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আয়োজকরা আমাকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার জন্য দাওয়াত করেন। ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে রাত ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমি ঢাকায় পৌঁছে শুনতে পেলাম হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক বিনা দাওয়াতে ওই মাহফিলে যোগ দেন। তার কিছু অনুসারীদের অনুরোধে রাত ১২টার পর তিনি বক্তৃতা করেন।
মিছবাহুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, পরদিন মামুনুল হকের ব্যক্তিগত আইডি এবং জামায়াত-শিবিরের ইউটিউব, ফেসবুকসহ যোগাযোগ মাধ্যমে ‘মামুনুল হকের সম্মেলনে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী’ শিরোনামে আমার বক্তব্য প্রচার শুরু করে। কিন্তু মামুনুল হক আসবেন এ বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। বিনা দাওয়াতে ওই সম্মেলনে যোগদান করার কারণে চান্দিনা থানায় মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।
জানা গেছে, ১৪-১৫ ডিসেম্বর চান্দিনার জোয়াগ পশ্চিমপাড়ায় কারী ইসমাইল (রহ.) ফাউন্ডেশন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে দুই দিনের ইসলামী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে মাওলানা মামুনুল হকের অংশ নেয়ার কোনো কথা প্রশাসন ও এলাকাবাসীকে জানাননি আয়োজকরা।
সম্মেলনের পোস্টারেও তার নাম ছিল না। গত ১৫ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে ওই মাহফিলে অংশ নেন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসা মাওলানা মামুনুল হক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চান্দিনা থানার ওসি সামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, করোনা মহামারির কারণে গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তার মধ্যে প্রশাসনের কাছে তথ্য পোপন করে মাহফিলের আয়োজন করেছে অভিযুক্তরা। ওই মাহফিলের পোস্টার, ব্যানারে খেলাফত মজলিশের মহাসচিব হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের নাম ছিল না।
কিন্তু, আয়োজকদের যোগসাজসে ওই মাহফিলে মামুনুল হক এসে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার, উস্কানিমূলক এবং মানুষের মধ্যে প্রপাগন্ডা ছড়ানোর মতো বক্তব্য প্রদান করেছেন। যার কারণে ১৭ ডিসেম্বর মাহফিলের আয়োজক মোশারফ হোসেন মাহমুদকে ১ নম্বর এবং হেফাজত নেতা মামুনুল হককে ২ নম্বর আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে।
ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীকেও।
তিনি বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লার চান্দিনা থানাধীন জোয়াগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় দুই দিনব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আয়োজকরা মাওলানা মামুনুল হক আসার বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। কিন্তু, ওই মাহফিলে মামুনুল হককে ডেকে এনে বক্তব্য দেওয়ানোর মাধ্যমে সেখানে তারা দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন।
