কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙচুর: যুবলীগ নেতাসহ ৩ আসামি রিমান্ডে

নজর২৪, কুষ্টিয়া- কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের মামলায় যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুন তিন আসামির প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে সকালে রিমান্ড শুনানির জন্য তিন আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়। তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করার পর কঠোর নিরাপত্তায় আসামিদের জেলা কারাগারে নেওয়া হয়

 

এ ঘটনার পেছনে কোনো জঙ্গি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদ এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত শনিবার বিকেলে একই আদালতে হাজির করে আসামিদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রাকিবুল হাসান।

 

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়দেব বিশ্বাস সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ বলেন, ‘দায়ের করা অভিযোগের সঙ্গে আসামিরা সম্পৃক্ত নন। এ মামলায় আসামিদের রিমান্ডের প্রয়োজন হয় না।’

 

এই তিন আসামি হলেন কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গার আনিচুর রহমান (৩২), মো. হৃদয় আহম্মেদ (২০) ও চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া মণ্ডলপাড়া এলাকার মো. সবুজ হোসেন (২০)। আনিচুর কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তবে ঘটনার পর তাঁকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

 

কুষ্টিয়ায় আদালতের ইন্সপেক্টর রেজাউল ইসলাম বলেন, তিন আসামিকে সকালে আদালতে হাজির করলে রিমান্ড শুনানি শুরু করেন আদালত। বিচারক তাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ শুক্রবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসকে গ্রেফতার করে।

 

পরে তার দেওয়া তথ্যমতে ঘটনায় জড়িত অপর দুই জন হৃদয় আহমেদ ও সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাচ্চু নামের আরও একজন পলাতক রয়েছেন। তবে এই তিন জন ভাস্কর্য ভাঙচুরে সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছে কুষ্টিয়া পুলিশ। তাদের দাবি, কয়া মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটিকে ফাঁসাতেই ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করে তারা।

 

পুলিশ সুপার তানভির আরাফাত বলেছেন, ভাস্কর্য ভাংচুরের চাক্ষুস প্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেদিন ঘটনার আগে সেখানে ভাঙচুরকারীরা আড্ডার ছলে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করছিল কলেজের দারোয়ান দেখেছেন। রাত ১১টা থেকে তারা সেখানে অবস্থান করছিল। রাত পৌনে একটার দিকে তারা হাতুড়ি দিয়ে তিনটি স্থানে আঘাত করে এ ভাংচুর করে।

 

এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আনিছুর রহমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিছুর রহমানকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *