বাঘাযতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতা

নজর২৪, কুষ্টিয়া- কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া মহাবিদ্যালয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মূল পরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান আনিস বলে জানা গেছে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা অন্যরা হলেন সবুজ হোসেন (২০) ও হৃদয় আহমেদ (২০)। কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ও কলেজের অধ্যক্ষের সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

 

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত।

 

পুলিশ সুপার বলেন, বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে কুমারখালী উপজেলার কয়া মহাবিদ্যালয়ে বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকা তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের সঙ্গে বাকিরা যারা রয়েছে, তাদেরও খুব শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

এসপি তানভির আরাফাত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আনিসুরের সঙ্গে কয়া মহাবিদ্যালয় (কলেজ) কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই দ্বন্দ্ব আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সহযোগীদের নিয়ে তিনি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের পাশে স্থাপিত বাঘা যতীনের ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করেন।

 

এ ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় কোনও সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশেই এটি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার মাধ্যমে হীন উদ্দেশ্য সাধনের ষড়যন্ত্র ছিল কি না তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে দেখা হবে।

 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামের কয়া মহাবিদ্যালয়ে অবস্থিত বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করে। পুলিশ শুক্রবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর দুজন হৃদয় আহমেদ ও সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

 

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন বাঙালি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী নেতা। তিনি ‘বাঘা যতীন’ নামেই সবার কাছে সমধিক পরিচিত। ভারতে ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

 

বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন ‘যুগান্তর দলে’র প্রধান নেতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছিলেন।

 

তার জন্ম ১৮৭৯ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানায়। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ১৯১৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একাই বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বাঘ হত্যা করেছিলেন বলে ‘বাঘা যতীন’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

 

তার স্মৃতি ধরে রাখতে গ্রামের কলেজের সামনে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুস সামাদ ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *