পুলিশের লাঠিপেটায় ভাস্কর্যবিরোধী মিছিল পণ্ড, বিপুল পুলিশ মোতায়েন

নজর২৪, ঢাকা- জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের সামনে সমাবেশ শেষে বের হওয়া ভাস্কর্যবিরোধী মিছিল পুলিশের লাঠিচার্জে পণ্ড হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাইতুল মোকাররমের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে ভাস্কর্যবিরোধী একটি মিছিল বের হয়। দুটি সংগঠনের ব্যানারে বের হওয়া এ মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মিছিলকারীরা। এসময়য় একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আটকের বিষয়টি পুলিশ স্বীকার করেনি।

 

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক গণমাধ্যমকে জানান, জুমার নামাজ শেষে দুটি সংগঠন বাইতুল মোকাররম মসজিদের সামনে সমাবেশ করে। এ ধরনের কোনো সমাবেশের অনুমতি ছিল না। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হলে তাতে পুলিশ বাধা দেয়।

 

ওসি বলেন, ‘মিছিল বা সমাবেশের অনুমতি ছিল না। মুক্তমঞ্চ ও সম্মিলিত ইসলামী জোট নামে দুটি সংগঠন সমাবেশ করে। পরে সমাবেশ থেকে একটি মিছিল বের করে। তখন আমরা মিছিলে বাঁধা দেই।’

 

এসময় কোনো সংঘর্ষ বা কেউ আহত হয়েছে কি-না জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘কোনো সংঘর্ষ হয়নি। আমার জানামতে কেউ আহতও হয়নি।’

 

এদিকে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনার পর বায়তুল মোকাররমের আশপাশের এলাকায় অন্তত চার থেকে ৫০০ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অবস্থান নিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, ঢাকার ধোলাইরপাড় চত্বরে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরির পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ইসলামপন্থী বেশ কয়েকটি দল সেই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।

 

গত মাসে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী এক সম্মেলনে ভাস্কর্য বিরোধী কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

 

হেফাজতের শীর্ষ নেতার মন্তব্যের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ভাস্কর্য তৈরির পক্ষে তাদের শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেন এবং এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিতও দেন।

 

সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (চৌঠা ডিসেম্বর) জুমার পর ভাস্কর্য স্থাপনের প্রতিবাদে আগেই মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছিল ইসলাম পন্থী বেশ কয়েকটি দল। তাদের বক্তব্য ছিল, ভাস্কর্যের নামে দেশে মূর্তি বানানো হচ্ছে।

 

ইসলামপন্থী দলগুলোর জোটের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচির আহ্বান জানানোর পরদিনই বাংলাদেশ পুলিশ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে মনে করিয়ে দেয়া হয় যে ঢাকা শহরে কোন ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সভা সমাবেশ করতে গেলে পুলিশের অনুমতির দরকার হয়।

 

ভাস্কর্যের বিপক্ষে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলছেন, তারা এর বিপক্ষে কথা বলেই যাবেন।

 

তিনি বিবিসিকে বলেছেন, “(ভাস্কর্য) হতে দেবো কি দেবো না সেটা তো আসলে আমাদের বিষয় না। আমাদের বিষয় হল আমরা প্রতিবাদ করবো।”

 

“শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আন্দোলন করবো। যেটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই জায়গা থেকে আমরা আমাদের ঈমানি দাবিটা জানিয়েই যাব, কথা বলেই যাব। সেটা সরকার রাখবে কি রাখবে না সেটা সরকারের বিষয়।”

 

বাংলাদেশে এর আগেও ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনাকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ন্যায় বিচারের প্রতীক গ্রীক দেবী থেমিসের একটি ভাস্কর্য স্থাপনের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের পর চাপের মুখে সেটি স্থানান্তর করা হয়।

 

সরিয়ে ফেলা হয় ঢাকায় বিমানবন্দর, জিপিও’র সামনের ভাস্কর্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *