নিজেকে এখনো নাদিমের স্ত্রী দাবি করে যা বললেন সেই আরশি

প্রায়ই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে খবরের শিরোনামে থাকেন কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল। কখনও মাদক কাণ্ডে, কখনও বা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। সম্প্রতি তার সঙ্গে ফারজান আরশি নামের তরুণীর বিয়ে হয়েছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সে ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে এ তরুণী দাবি করেন, তিনি গায়ক নোবেলকে বিয়ে করেননি। এখনো তিনি নাদিম আহমেদের স্ত্রী।

স্ট্যাটাসে আরশি লেখেন, ‘আজ লাইভে এসে ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দেব ইনশাআল্লাহ। নোবেলের সাথে আমার বিয়ে হয়নি বা কোনো সম্পর্কও নেই।’

অন্যদিকে নোবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুড়ে আরশি লেখেন, ‘নোবেলের স্ত্রী সালসাবিল আপু। আপু নিজেই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে দিয়েছেন, যা আপনার বিভিন্ন নিউজে দেখতে পেয়েছেন। আমি যদি নিজের ইচ্ছায় নোবেলের কাছে চলে আসতাম তাহলে স্বামীর সঙ্গে থাকা সব ছবি-ভিডিও ডিলিট করে দিয়েই যেতাম। আমি বাসা থেকে এক কাপড়ে বের হয়েছিলাম, যে নোবেলের সঙ্গে দেখা করে চলে আসব। আমার সাথে এক বান্ধবীও ছিল। অনেক ব্যাপার আছে যেটা আপনারা জানেন না। তাই দয়া করে কোনো উল্টাপাল্টা সংবাদ করবেন না।’

আরশি এখন নিজ বাসায় আছেন জানিয়ে লেখেন, ‘আমি নিজের বাড়ি খুলনায়ই আছি। একটু সুস্থ হয়ে আজই লাইভে এসে সব বিষয় পরিষ্কার করব। নোবেলের সাথে আমার বিয়ে হয়নি। আমি এখনো নাদিম আহমেদের স্ত্রী। দয়া করে আমাকে সবাই একটু সময় দিন। যারা আমাকে চেনেন তারা অন্তত বুঝবেন। দুদিন আগে আমি আমার স্বামীকে নিয়ে ছবি তুলে পোস্ট করলাম, দুদিনে এমন কী হলো সেটাই আমাকে বলতে দেবেন। যদি যাওয়ার ইচ্ছাই থাকতো তাহলে সবকিছু ডিলিট করে দিয়ে যেতাম।’

নোবেলের স্ত্রী সালসাবিল জানিয়েছিলেন, নোবেলের নতুন স্ত্রী ফারজানা আরশি একজন ফুড ব্লগারের স্ত্রী। অন্য একজনের বউকে তুলে নিয়ে এসে নিজের বউ দাবি করেছেন নোবেল। মেয়েটির পরিবারের সদস্যরাও গিয়ে আরশিকে আনতে পারেনি। তাদের দুজনকে একসঙ্গে নেশা করতেও দেখা গেছে। একই কথা ফেসবুক লাইভে বলেছেন আরশির স্বামী নাদিম আহমেদ।

এর আগে বুধবার বিকেলে আবার ফেসবুকে ফারজান আরশি জানান, ‘আমি এখন এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি যে আমার সবকিছু স্বাভাবিক নেই। আমি মানসিকভাবে অনেক ভেঙে পড়েছি তারপরও আপনাদের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করছি সবকিছু ক্লিয়ার করার জন্য। আমি খুলনায় বিভিন্ন ব্লগ করে থাকি, সেজন্য একটি ভিডিও কন্টেন্ট বানানোর উদ্দেশ্যে নোবেলের বাড়ি গোপালগঞ্জ যাই। আমার সঙ্গে আমার এক বান্ধবী ও ছিল। ওখানে যাওয়ার পর পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যায়। নোবেল তার মায়ের সামনেই আমার গলায় ছুরি ধরে এবং আমার ফোনটি কেড়ে নেয় এবং জোর করে আমাকে ঢাকায় তার বাসায় নিয়ে যায়। আমাকে বিভিন্ন ড্রাগ জোর করে সেবন করায় এবং মারধর করে। আমি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে আমার এক বান্ধবীও ছিল। ওখানে যাওয়ার পর পরিস্থিতি অনঅন্যরকম হয়ে যায়। নোবেল তার মায়ের সামনেই আমার গলায় ছুরি ধরে এবং আমার ফোনটি কেড়ে নেয় এবং জোর করে আমাকে ঢাকায় তার বাসায় নিয়ে যায়। আমাকে বিভিন্ন ড্রাগ জোর করে সেবন করায় এবং মারধর করে। আমি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে ডেমরা থানায় আমাকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে একটা জিডি করায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আমাকে আমার বাবা এবং কাজিন উদ্ধার করতে গেলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি নোবেলের কথামত ভয়ে পুলিশকেও মিথ্যে বলি তখন আমার শরীরে ড্রাগ পুশ করা ছিল। পরে গোপালগঞ্জ থেকে আমার পরিবার আমাকে উদ্ধার করে।’

এরপরই ফারজান আরশি লেখেন, ‘নোবেল জোর করে নেশা করিয়ে আমাকে দিয়ে উক্ত ছবিগুলা তুলেছে। নোবেলের সঙ্গে আমার কোনো প্রকার বিয়ে হয়নি এবং কোন সম্পর্ক ও নেই। আমি পরিবেশ এবং পরিস্থিতির স্বীকার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *