আ.লীগকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে পদ হারালেন দলের নেতা

নজর২৪, ঢাকা- নারায়ণগঞ্জে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে ‘আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতাবিরোধী দল’ উল্লেখ করে বক্তব্য রাখায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদককে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল বলেন, জাহাঙ্গীর আলম পদে থেকেও আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতাবিরোধী দল উল্লেখ করে জনসমক্ষে বক্তব্য দেন। দল থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি ঠিক আছে। তারা গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই এটি করেছেন বলে জানান।

 

জাহাঙ্গীর আলমের কাছে প্রেরিত সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনি জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতাবিরোধী দল হিসেবে বক্তব্য রাখার অপরাধে আপনাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। গত ২১ নভেম্বর তারিখে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে আপনার দেয়া বক্তব্য ক্ষমার অযোগ্য, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে আমাদের হাতে এসেছে।’

 

প্রসঙ্গত, ২১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজের নামফলক ভেঙে ফেলার অভি’যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী দল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একদিন পর ২৩ নভেম্বর বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে গণমাধ্যমে লিখিত বিবৃতি দেন।

 

এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম জানান, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির কোনো চিঠি তিনি হাতে পাননি। কী কারণে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, তাও তার জানা নেই।

 

তবে ২১ নভেম্বর বিকেলে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি অসাবধানতাবশত আওয়ামী লীগ ‘স্বাধীনতার সপক্ষের দল’ বলার বদলে ‘স্বাধীনতাবিরোধী দল’ বলে ফেলেছিলেন। তার এ অনিচ্ছাকৃত ভুলকে পুঁজি করে জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন।

 

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলমকে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

 

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *