ঘাটাইলে মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়িয়া অঞ্চলের সাগরদিঘী ও লক্ষিন্দর ইউনিয়নের গড়ে ওঠা পোলট্রি খামারের মুরগিরর বিষ্ঠা ও বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে মারাত্বকভাবে। পোলট্রি বর্জ্যে তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দারা। ভোগান্তিতে আছে স্থানীয় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

 

জানা যায়, ২০১১ সালে উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের শোলাকুড়া গ্রামে সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি প্রথম পোলট্রি খামার স্থাপন করে। তারপর থেকে প্রতিবছরই এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে সাগরদিঘী ও লক্ষিন্দর ইউনিয়নে দশটি বড় বড় কোম্পানির পোল্টি খামার রয়েছে। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিপি বাংলাদেশ, নারিশ, পিপলস ও প্যারাগন কোম্পানির পোলট্রি খামার। এসব পোলট্রি খামারে প্রায় আট থেকে দশ লাখ মুরগি রয়েছে। এছাড়া পাহাড়িয়া এলাকার আনাচে কানাচে ব্যাক্তি মালিকানায় প্রায় দুই শতাধিক পোলট্রি খামার রয়েছে।

 

এলাকাবাসী জানায়, পোল্টি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার কোন ব্যবস্থা না থাকায় সব খামারের মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসাবে বিক্রি করে খামারিরা। সময়মত বিক্রি না হলে খামারেই থেকে যায় এসব বিষ্ঠা। ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায় আশপাশের এলাকায়। তাছাড়া মুরগির বিষ্ঠা ট্রাকে করে নেয়ার সময় রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এর ফলে ছিটিয়ে পড়া বিষ্ঠার র্দুগন্ধে পথচারীদের চরম র্দুভোগ পোহাতে হয়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এলাকার পথঘাট। দুর্গন্ধের কারনে স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের রুমাল বা বই দিয়ে নাক চেপে ধরে স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করতে হয়।

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সানবান্ধা গ্রামের পিপলস হ্যাচারি কোম্পানির খামারের পাশে বিষ্ঠার ভাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ট জনবসতিপূর্ন এলাকাবাসী। তাছাড়া খামারের ভিতরে ভাঙ্গা বা পরিত্যাক্ত ডিমের পচা গন্ধে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী।

 

সানবান্ধা গ্রামের হামিদ আলী আকন্দ বলেন, গরিব মানুষের কথা কে শুনে। খামারের গন্ধের কথা বলতে গেলেই বিপদে পড়তে হয়। সানবান্ধা গ্রামের আব্দুল কদ্দুস জানান, বিষ্ঠার দুর্গন্ধে ভালোভাবে খাওয়া দাওয়া করা যায় না। দুর্গন্ধে বমি এসে যায় এবং ছোট বাচ্চারা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে।

 

অন্যসব কোম্পানি এবং স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা সাধারন খামার গুলো ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। সানবান্ধা পিপলস হ্যাচারি লি: এর ইনচার্জ আবু নাসেরের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

ঘাটাইল উপজেলার স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুর রহমান খান জানান, পোলট্রির বিষ্ঠার দুর্গন্ধ স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তাছাড়া শ্বাসকষ্টের মত বড় ধরনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই খামার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা সব সময় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে।

 

সাগরদিঘী ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার বলেন, এলাকাবাসী দুর্গন্ধের দুর্ভোগ পোহালেও লাভবান হন খামারীরা। সাধারন মানুষের দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানান তিনি।

 

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পরিবেশ দূষণকারী খামারের মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *