দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মুক্তির আলো দেখেছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’। তবে দেশে নয়, আমেরিকা ও কানাডার ৭১টি থিয়েটারে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এই প্রথম ফারুকীর কোনো সিনেমা দেশের আগে বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেয়েছে।
‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি উপলক্ষে বর্তমানে নিউ ইয়র্ক ও কানাডা সফরে রয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। হলে হলে গিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখার চেষ্টা করছেন। ছবি দেখার পর অধিকাংশ দর্শকই ইতিবাচক মন্তব্যে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নির্মাতা ও শিল্পীদের। ফলে আনন্দ-আবেগে আপ্লুত হচ্ছেন ফারুকী।
আমেরিকার সেই প্রশংসা আনন্দের উপলক্ষ হয়ে কড়া নাড়ছে ঢাকার তিশার দরজায়ও। কারণ, তিনি এই সফরে ফারুকীর সঙ্গী হতে পারেননি। সেজন্য দেশে থেকেই ছবির খবরাখবর রাখছেন।
একটি সংবাদমাধ্যমকে তিশা বলেন, ‘নিউ ইয়র্কের প্রত্যেকটা শো খুব ভালো যাচ্ছে। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতেও সরয়ার গিয়েছিল, সেখানেও ভালো হচ্ছে। আর কানাডাতে আমাদের প্রত্যাশা যেমন ছিল, তেমনই যাচ্ছে। ওখানেও তো আমাদের বাঙালি ভাই-বোনেরা আছেন। আমরা আসলে প্রথমে ভয়েই ছিলাম কেমন যাবে। তবে আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো যাচ্ছে ছবিটা।’
দেশের আগে বিদেশে, তাও প্রায় প্রচারণাহীন মুক্তি পেলো ‘শনিবার বিকেল’। তবু দর্শক ছবিটি দেখছেন। এ বিষয়ে আনন্দ প্রকাশ করে তিশা বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনও ছবি মুক্তি পেলে অন্যান্য দেশে থাকা বাঙালিরাও সেটার খবর পান, এরপর বিদেশে মুক্তি পায়; ওই সিনেমার প্রচারণা এক ধরনের। আর আমাদের ছবিটা প্রথমেই বাইরে মুক্তি পেয়েছে, প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেখছেন, এটা আরেক ধরনের। কিন্তু আমার মনে হয়, বাংলাদেশি মানুষ পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, দেশের খবরাখবর রাখেন। সুতরাং আমাদের খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। তারা নিজ দায়িত্বে আসছেন, বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আসছেন এবং ছবিটা দেখে প্রশংসা করছেন; এসব দেখে আমরা অনেক আনন্দিত।’
শুধু জীবন নয়, ফারুকীর প্রায় ছায়াসঙ্গী তিশা। দেশ-বিদেশের প্রায় সব সফরেই তারা একসঙ্গে যান। কিন্তু এবার ফারুকী একাই গেছেন আমেরিকায়।
নিজের যুক্ত হতে না পারার কারণ তিশা এভাবে জানালেন, ‘এখন তো আমার জীবনটা আর আগের মতো নাই যে প্ল্যান হলো আর হুট করে চলে গেলাম। আমার সঙ্গে এখন আরেকটা জীবন জড়িত, ইলহাম; তার বয়স অতো বেশিও হয়নি। এটা যদি ১৫-২০ দিনের ট্যুর হতো, তাহলে ইলহামকে নিয়ে আমিও যেতাম। কিন্তু এটা যেহেতু খুব শর্ট ট্রিপ, ওখানে আবার মাইনাস তাপমাত্রা চলছে; এখানকার গরম থেকে ওখানে গেলে ওর শরীরটা খারাপ করতো। এছাড়া আমার মা-ও একটু অসুস্থ। সবকিছু মিলিয়ে আর সাহস করলাম না।’
