জাকিয়া বারী মম। গুণী এক অভিনেত্রীর নাম। নাটক ও চলচ্চিত্র দুই মাধ্যমেই নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেন মম। এরপর ২০০৭ সালে তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় আবির্ভাব তার।
প্রথম ছবিতেই তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর অসংখ্য খণ্ড নাটক ও ধারাবাহিকে দেখা গেছে মমকে। এছাড়া প্রেম করব তোমার সাথে, ছুঁয়ে দিলে মন, দহনসহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
বর্তমানে একাধারে নাটক, সিনেমা এবং ওটিটি প্লাটফর্মে বাজিমাত করে চলেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। আলাপচারিতায় তিনি সিনেমার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও কথা বলেন।
নিজেকে খুব খুব শান্তি প্রিয় ও সাধারণ মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মম বলে, জীবন শান্তির। স্বাভাবিক জীবন-যাপন করি। সোজা পথে হেটে যাই ডাল দিয়ে ভাত খাই। আমার কাছে এত ভেজাল ভাল লাগে না।
নিজের সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা নিয়ে তিনি বলেন, আমার কোনো পরিবর্তন নাই। এটি ধরে রাখতে পেরেছি কারণ, আসলে আমি নিজেকে ভালবাসি সম্মান করি। নিজেকে ভালবাসলে সম্মান করলে গোটা দুনিয়াকেও ভালবাসা সম্ভব।
এই অভিনেত্রী বলেন, আমার কারোর সঙ্গে এমনকি নিজের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা নেই। কাজের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা বা পিছিয়ে থাকা কোনো ব্যাপার না। আল্লাহ এমন কোনো এজেন্ডা দিয়ে আমাকে পৃথিবীতে পাঠায়নি যে, জাকিয়া বারী তোমাকে এটা হতেই হবে! আমি নিজের জন্য এই গোল সেট করেছি যে আমি অভিনয়শিল্পী হব। কে কিভাবে দৌড়াচ্ছে তা নিয়ে আমার কোনো চিন্তা নেই। কারণ জীবন আমার, নিয়মও আমার। পৃথিবী কোথায় দৌড়াচ্ছে সেটা দেখে আমি কি করব বলুন। জীবনে দৌড়ানোর কিছু নাই। আর দৌড়ালে কই দৌড়াব। উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, এই ঢাকায় কেউ না কেউ আপনার সামনের গাড়িতে আছে। আপনি কিন্তু বরাবরই কোনো কোনো গাড়ির পেছনে। ছোট বেলায় অনেক দৌড় ঝাপ করেছি। করোনার পর স্থির হয়ে গেছি।
সমালোচনা দিয়ে কখনো জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চান না বলেও জানান জাকিয়া বারী মম। তিনি বলেন, সমালোচনা দিয়ে আমার চার আনার সাময়িক জনপ্রিয়তা অর্জন হতে পারে। অনেক মানুষের মুখে আমার নাম থাকতে পারে কিন্তু আমার কোয়ালিটি কিন্তু বাড়বে না। এতে আমার শান্তি হয় না। জীবনে একেকজনের চাওয়া আলাদা। চার আনা দুই আনার দুই দিনের এই জনপ্রিয়তা আমার দরকার নাই। ওই পথ বেছে নেব না কখনো। আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তো আমি কথাই বলি না। যে যেমন চায় বলুক। কারণ আমার ব্যক্তিগত জীবন আমার একান্ত ব্যক্তিগত।
