কক্সবাজার: দেশে চলমান শৈত্যপ্রবাহে একটু উষ্ণতার খোঁজে পর্যটকদের ঢল নেমেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সেখানে দিনের বেলায় তপ্ত বালুর তাপ নিতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। কনকনে শীতের মধ্যেও নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। সৈকতে দিনের বেলায় শীতের তেমন প্রভাব দেখা যায়নি।
ফলে, দুপুরে অনেকেই তপ্ত বালুতে গড়াগড়ি করে শরীরকে উষ্ণ করে নিচ্ছেন। এছাড়া, ঝাউবন, বালুকাবেলা, সৈকতের পাদদেশ, সমুদ্রস্নান দারুণ উপভোগ করছেন তারা।
উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তীব্র শীতে মানুষ জবুথবু, তখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। সৈকতে প্রকৃতির রঙের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিনিয়ত রং বদল হচ্ছে আবহাওয়ারও। ভোরে ও সন্ধ্যায় সৈকতের বালিতে ঠান্ডা ভাব থাকলেও বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় উষ্ণতাও। সমুদ্রতীরে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করলেও সৈকত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অনুভূত হয় শীত। সৈকতের এ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া ভ্রমণ বিলাসীদের মনে উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে।
বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অনার্স শেষবর্ষের ছাত্র অনিক রায়হান ও রাব্বি চৌধুরী। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তীব্র শীতে সমুদ্র সৈকতে কেন? এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর আসে- ‘শীত জেনেই কক্সবাজারে আসা। কারণ, অনেকের মতো তাদেরও জানা, সারাদেশে শীত থাকলেও এখানকার আবহাওয়া উষ্ণ।’
তারা বলেন, শীতে একটু গরম আবহাওয়া পেতে এখানে এসেছি। তাছাড়া এখন কলেজ বন্ধ। তাই, একটা দারুণ সময় পার করছি দুই বন্ধু মিলে। এ শীতে কক্সবাজারে সমুদ্র দেখা ছাড়াও উষ্ণতা উপভোগ করাটাই যেন প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু বন্ধুরা মিলেই নয়, এ শীতে অনেক নববিবাহিত যুগলও আনন্দঘন সময় পার করতে ছুটে এসেছেন কক্সবাজারে।
এমনই এক নব দম্পতি সিলেটের শরিফুল ইসলাম ও তার নববধূ ফারজানা প্রিয়া। এখানে আসা প্রসঙ্গে তারা বলেন, সারাদেশ যখন তীব্র শীতে কাঁপছে, তখন এখানকার একটু উষ্ণতা সত্যিই দারুণ উপভোগ্য। আর এটা উপভোগ করার জন্যই এখানে আসা।
ঢাকার মগবাজার থেকে আসা পর্যটক তৌহিদ মুল্লা বলেন, প্রশান্তির আশায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সৈকতের নোনাজলে স্নান করতে এসেছি। অসম্ভব রকমের ভালো লাগছে কেনাকাটা, পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরাঘুরি, সামুদ্রিক মাছের তৃপ্তিদায়ক খাবার, আড্ডা, পরিবারসহ খুবই মজা করছি। কক্সবাজারে না আসলে খুব মিস হতো বলে মনে করি।
এদিকে, পর্যটক মৌসুম শীতকে কেন্দ্র করে সমুদ্র উপকূলে গড়ে ওঠা হোটেল ও মোটেলগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ সিট বুক হয়ে যায় বলে জানায় হোটেল কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে কথা হয় স্থানীয় একটি মোটেলের রিসিপশনিস্ট ম্যানেজার মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে আমাদের মোটেলে পর্যটকের ভিড় বেশি হয়। কারণ, সারাদেশে শীতের তীব্রতা বেশি হলেও এখানে বিপরীত আবহাওয়া বিরাজ করে। তাছাড়া, বছরের প্রথমে ও শীতকালীন সরকারি ছুটি পেয়ে এসময় অনেকেই ছুটে আসেন এখানে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ কোনো কারণ না থাকলে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে এখানে পর্যটকদের বেশি ভিড় হয়। এ সময়ে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ সিট বুক হয়ে যায়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, অতিরিক্ত কক্ষভাড়া, খাবারের বেশি দাম আদায়সহ ভোগান্তির শিকার হলে আগে পর্যটকেরা অভিযোগ করার সুযোগ পেতেন না। গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে শহরের কলাতলীর হাঙর ভাস্কর্য মোড়, সৈকতের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে পৃথক তিনটি তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং ঘটনার সুরাহা হওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকেরা যেমন সতর্ক হচ্ছেন, তেমনি পর্যটকেরাও হয়রানি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। তা ছাড়া পর্যটক হয়রানি রোধে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে।
