কী এক অবিশ্বাস্য ম্যাচ! একে একে যখন সব উইকেট সাজঘরে গিয়ে জমা হলো, তখন শেষ আশার প্রদীপ হিসেবে মাঠে ছিলেন কেবল মেহেদী হাসান মিরাজ। তার সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান। জয় থেকে তখনও দল ৫১ রান দূরে।
প্রতিপক্ষের নাম যখন ভারত এবং দলটিতে যখন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের মতো থিঙ্কট্যাঙ্ক থাকে এবং শার্দুল ঠাকুর, মোহাম্মদ সিরাজ ও ওয়াশিংটন সুন্দরদের মতো বোলার থাকে, তখন এই ৫১ রানকে ৫১০ রান দূরে মনে করলেও কিছু বলার থাকবে না।
কারণ, এমন পরিস্থিতি থেকে কেউ ম্যাচ বের করে আনতে পারবেন, এই দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারবে না। এই স্বপ্ন দেখাও তখন মনে হবে দুঃস্বপ্ন।
কিন্তু কখনও কখনও স্বপ্ন ভেঙে জেগে ওঠার পর দেখা যায়, যা স্বপ্নে দেখা হয়েছিল তা বাস্তব এবং অবিশ্বাস্যভাবে এসে জমা হয়েছে হাতের মুঠোয়, তখনও কী তা অবিশ্বাস করার মতো থাকে? কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ওই ৫১ রান করে বাংলাদেশকে জয় এনে দেওয়ার কৃতিত্বটি যে এখনও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে!
হ্যাঁ, এই অবিশ্বাস্য কাজটিই করে দেখিয়েছেন মিরাজ। বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। মোস্তাফিজুর রহমানকে একপাশে দাঁড় করিয়ে রেখে, কোনো সিঙ্গেলস কিংবা ডাবলস না নিয়ে একটি-দুটি বাউন্ডারি মেরে ধীরে ধীরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন মিরাজ।
৪৬তম ওভারের শেষ বলটি থেকে যখন এক রান নিয়ে বিজয়োল্লাসে গর্জন করে ওঠেন মেহেদী মিরাজ, তখন সেই গর্জন সঞ্চারিত হয় ড্রেসিংরুমের সামনে দাঁড়ানো সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের মাঝেও। অন্য সতীর্থদের সঙ্গে শিশুর মতো তখন মাঠের মধ্যখানে দৌড়ে এসে বিজয়ের আনন্দে লাফাতে থাকেন সাকিবের মতো ক্রিকেটারও।
শুধু তাই নয়, বিস্ময়াভিভূত সাকিব আল হাসান অবিশ্বাস্য কীর্তিগড়া মিরাজকে এক লহমায় তুলে নেন নিজের কাঁধে। কতটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি পেলে, কতটা স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনার পর কাঙ্ক্ষিত সাফল্য হাতে ধরা দিলে সাকিবও এসে মিরাজকে কাঁধে তুলে নিতে পারেন, একবার ভেবে দেখুন!
সাকিব কেন, বাংলাদেশ দলের বিদেশি কোচিং স্টাফদের মুখেও যেন অবিশ্বাসভরা হাসি। সাকিব মিরাজকে কাঁধে তুলে নেওয়ার যে ছবি দেখা গেলো, তার পেছনেই সেই অবিশ্বাসভরা চাহনি নিয়ে তাকিয়ে আছেন বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ অ্যালন ডোনাল্ড।
মিরপুর শেরে-ই বাংলার প্রেস বক্সেও ছুঁয়ে গেছে টাইগারদের এমন জয়ের আনন্দ। গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপানকেও বেশ হাস্যউজ্বল অবস্থায় দেখা গিয়েছে এসময়।
