বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই, এটা কষ্ট দেয়: প্রধানমন্ত্রী

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দল না থাকায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল হচ্ছে, যদিও আমাদের কোনো অবস্থান নেই; এটা আসলে কষ্ট দেয়।’

বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২২ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আজ বুধবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সময় পেলেই খেলা দেখেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোজ যখনই সময় পাই, খেলা দেখি। তখন এ কথা ভাবি, কবে আমাদের ছেলেরা বা মেয়েরা চান্স পাবে। তবে আমাদের মেয়েরা অনেক ভালো করছে। এটা সন্দেহ নেই। মেয়েরা সাফ গেমস, এশিয়ান গেমসসহ বিভিন্ন গেমসে ভালো ফুটবল-ক্রিকেট খেলছে। আমি মনে করি, আমাদের ছেলেরাও পারবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা ক্রীড়া প্রশিক্ষণের জন্য শুধু ঢাকা নয়, ৮ বিভাগে একটা করে বিকেএসপি করে দিচ্ছি। যে যে ইভেন্টে আমাদের ছেলেরা খেলার যোগ্য, সেই ইভেন্টগুলোতে যেন চর্চা হয়। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ একান্তভাবে দরকার। স্বাধীনতার পর পর জাতির পিতা আমাদের দেশের খেলোয়াড়দের জার্মানি ভারতসহ অন্যান্য দেশে পাঠিয়েছিলেন। ট্রেনিং করিয়ে এনেছিলেন। আমরাও সেভাবে আমাদের ছেলেমেয়েদের স্পোর্টসের বিভিন্ন শাখায় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে এবং খেলাধুলার জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে চাই।

‘আমি জানি, আমাদের সুযোগ একটু সীমিত, তবে আমাদের চেষ্টা রয়েছে। আমরা আরও সুযোগ সৃষ্টি করে দেব। আমাদের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট ভালো করেছে, আরও ভালো করবে। আজকে যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

খেলাধুলা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা আমাদের যুবসমাজকে পথ দেখায়। শিশু বা কিশোর বয়স থেকে যত বেশি খেলাধুলা করবে, তত বেশি মন বড় হবে, শরীর ভালো থাকবে। এই যে চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য একের সঙ্গে অপরের যে প্রতিযোগিতা, এই প্রতিযোগিতাই আমাদের ছেলেমেয়েদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে, নিজেদেরও আত্মশুদ্ধি হবে এবং তারা সুন্দরভাবে বাঁচবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মাদক, জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাস চাই না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। উন্নতি ও প্রগতিতে বিশ্বাস করি। শিক্ষা-দীক্ষা, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি চর্চার মতো বিষয়গুলোয় আমি জানি সবসময় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা লাগে, পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এগুলো কখনো বিকশিত হয় না।

খেলাধুলার সঙ্গে নিজের পরিবারের সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এমন একটি পরিবারে জন্মেছি, যেটি ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ পরিবার। আমার দাদা ফুটবলার ছিলেন, দাদার ছোট ভাই তিনিও ফুটবলার ছিলেন, আমার বাবাও ফুটবলার ছিলেন। আমার দাদা যখন অফিসার্স টিমের ক্যাপ্টেন, তখন আমার বাবা ছিলেন ছাত্রদের ক্যাপ্টেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, তার কাছেই আমরা শুনেছি একদিকে বাবার টিম একদিকে ছেলের টিমের খেলা হতো। আর নিজের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু খুব চমৎকারভাবে সে কথা লিখে গেছেন।

দেশের প্রতিবন্ধীরা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে এবং ভালো ফল বয়ে আনছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবসময় চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখবে। কারণ আমি মনে করি, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী, অত্যন্ত গুণী। একটু সুযোগ পেলেই তারা যে অসাধ্য সাধন করতে পারে, সেটা আমি বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সচিব মেজবাহ উদ্দিন, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ খেলোয়াড় ও আয়োজকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *