নিজস্ব প্রতিবেদক: এপারে ফটিকছড়ি, ওপারে মীরশ্বরাই। দুই উপজেলার সীমান্তের মানুষদের মেলবন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে বাধা হয়েছিল জিলতলী কয়লা খাল। অবশেষে সেই খালের উপর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি সেতু পাচ্ছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সম্প্রতি ফটিকছড়ির কৃতিসন্তান তরুণ ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বিপ্লবের নজরে আসলে তিনি একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই লক্ষে নিজের অর্থায়নে করে প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কাঠের সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। এতে হাসি ফুটেছে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের মুখে।
জানা যায়, চট্রগ্রামের মীরশ্বরাই-ফটিকছড়ি সংযোগ সীমান্তের দুই পাড়ে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস। তাদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ছিল জিলতলী সড়ক। কিন্তু এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে কয়লা খাল পার হতে হয় মানুষের। যেখানে নেই কোন সেতু বা কালভার্ট। শুকনো মৌসুমে কোনমতে বড় এই খালটি পার হতে পারলেও বর্ষায় গ্রামগুলোর জনগণ কার্যত বন্ধি অবস্থায় থাকে।
উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামটিতে। গুরুত্বপূর্ণ এই খাল পারাপারে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এতে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ পোহাতেন সবচেয়ে বেশি। আর রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যে কত কষ্টের তা বলারই অপেক্ষা রাখে না।
বর্তমানে এই সেতু নির্মাণের ফলে কয়লাপশ্চিম সোনাই, দমদমা, মরা কয়লা, জিলতলী, কুমিল্লা পাড়া, ইসলামাবাদ, সুবলছড়ি, কালাকুম এলাকার জনসাধারণের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরী করবে।
চট্রগ্রামের ফটিকছড়ির স্থানীয় সাংবাদিক ও ইউপি সদস্য মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, শিল্পপতি মেহেদী হাসান বিপ্লব জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি)। ফটিকছড়ির বালুটিলা এলাকায় জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পপতিকে সম্প্রতি গ্রামবাসীর দুঃখের কথা জানালে তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছেন। সেতুটি হওয়ায় যাতায়াত সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি দুই উপজেলার মানুষের মেলবন্ধন ঘটবে। তবে এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি গ্রামবাসী সবার।
জানতে চাইলে জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মোঃ মেহেদি হাসান বিপ্লব বলেন, এটি আমার উপজেলার একটি সীমান্তবর্তী গ্রাম। কিন্তু আগে আমি জানতাম না একটি সেতুর অভাবে এলাকার মানুষ দিনের পর দিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তবে সম্প্রতি ওই গ্রামের দুই ব্যক্তি একটি সেতু না থাকার আক্ষেপ আমার কাছে জানান। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাদের সমাধানের আশ্বাস দেই। যার ফলে ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, কাঠের সেতুর সঙ্গে মাটি ভরাট করে দুই পাড়ে সংযোগ সড়কও তৈরি করা হচ্ছে, যার কাজ প্রায় শেষের দিকে। শিগগিরই মানুষের চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতেও সমাজের অসহায় মানুষের পাশে থাকবেন বলে জানান তরুণ এই ব্যবসায়ী।
