পাটগ্রামে দুই কোটি টাকার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন মেরামত, দেয়াল নির্মাণসহ আনুষাঙ্গিক মেরামত কাজে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে ঠিকাদার এসব নিম্নমানের কাজ করেছেন। খুব সহজেই হাত দিয়ে বাঁকা করা যায় জানালার গ্রিল, এ্যাংগেল ও পাতি।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে গণমাধ্যমের ক্যামেরায় এসব চিত্র ধরা পড়ার পর কাকতালীয়ভাবে দেখা মেলে ঠিকাদার মনির ও জেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা আহসান হাবীব ও অনুপ মিত্রের।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মনির কথা বলতে রাজি না হলেও জেলা কর্মকর্তারা এই কাজ পরিদর্শন করে সঠিক রিপোর্ট পেশ করবেন বলে জানান।

এসব কাজ ইস্টিমেট অনুযায়ী আদৌ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে প্রায় সময় জেলা, উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পাশ কাটিয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের পথ দেখিয়ে দেন। যে তথ্য পাওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই কাজের বেশিরভাগ অংশ। এ সম্পর্কিত জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়েব পোর্টালেও দেওয়া নেই কোন তথ্য।

শুধু তাই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে চলমান বর্জ্য নিরোধক যন্ত্রেও পুরোনো রড ব্যবহারের পক্ষে সায় দিয়ে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামও এ সম্পর্কিত সকল তথ্যের জন্য তথ্য অধিকার আইনের কথা বলেন।

তিনি স্ব-ইচ্ছায় ইস্টিমেডের বাইরে আরও সুন্দর করার লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গঠনপ্রণালি ছাড়াও অতিরিক্ত কাজ ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে নিজে করছেন বলে জানান। আর এই কাজ দেখভাল করছেন তারই অফিস কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান সাজু।

এর আগে ২ কোটি টাকার কাজ শুরুর প্রথম দিকেই ধরা পড়েছিল অনিয়মের চিত্র। যেখানে পাওয়া যায় দেয়াল নির্মাণের সময়ও ব্যবহার হচ্ছে পুরনো রড ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখার চিত্র। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে দেয়াল নির্মার্ণের কাজ। আবারও পাওয়া যায় ত্রুটি। এবং নতুন করে এই কাজে দ্বিতীয় ধাপে পাওয়া গেল ব্যপক অনিয়মের চিত্র।

গণমাধ্যমের খবরে কিছুটা নড়েচড়ে বসলেও, একটু আড়াল হলেই সরকারি অধিকাংশ কাজে দায়িত্বহীনতার পরিচয় হরহামেশাই দেখা যায়। নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইচ্ছেমত অনিয়ম আর দুর্নীতির ছাপ রেখে যায় সংশ্লিষ্ট কাজের কর্মকর্তারা। সময়মত এসব কাজে তদারকি আর উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার অভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যায় এসব কাজের সাথে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *