নাটোরের কলজেছাত্র মামুনকে বিয়ে করে সুখের সংসার গড়া খুবজীপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহারের সংসারের সমাপ্ত ঘটল। প্রায় ৮ মাস ২ দিনের মাথায় খাইরুন নাহার নামে সেই শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিক্ষিকা মোছা. খাইরুন নাহার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে। তিনি উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নাটোরের গুরুদাসপুরে মো. মামুন হোসেন (২২) নামে এক ছাত্রের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহার। একপর্যায়ে ভালোবাসা প্রণয়ে রূপ পায় গত ১২ ডিসেম্বর। কাজী অফিসে গিয়ে দুজন গোপনে বিয়ে করেন।
মামুন নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
শুরুতে চুপচাপ থাকলেও হঠাৎ গত ৩১ জুলাই তাদের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হয়। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিয়ের খবরটি ভাইরাল হয়। এতে সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
অবশ্য তাদের দুজনই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ভালোবাসা থেকে সংসার জীবনে এসে তারা বেশ ভালোই আছেন। আমৃত্যু এভাবেই তারা থাকতে চান এমনটিও বলেছেন।
কিন্তু এমন অবস্থার মধ্যে হঠাৎ কলেজ শিক্ষিকার মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন সবার মনে৷ যদিও এখনো কোনো কিছু খুঁজে পায়নি পুলিশ।
তবে খাইরুন নাহারের স্বামী মামুন দাবি করেছেন তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আ’ত্মহ’ত্যা করেছেন। তবে প্রতিবেশীরা বলছেন যে, তারা মামুনের ডাকে ঘরে গিয়ে খাইরুন নাহরের লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
জানা যায়, এক বছর আগে ফেসবুকে শিক্ষিকা নাহারের সঙ্গে একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র মামুনের পরিচয় হয়। পরে তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।। বিয়ের ৬ মাস পর তাদের সম্পর্ক জানাজানি হলে ছেলের পরিবার মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার থেকে এখনও বিয়ে মেনে নেননি।
এর আগে ওই শিক্ষিকা প্রথমে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহী বাঘা উপজেলার এক ছেলেকে। পারিবারিক কলহে সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি। প্রথম স্বামীর ঘরে একজন সন্তান রয়েছে।
