সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার পরামর্শে পালিয়েছিলাম: আকবর

নজর২৪ ডেস্ক- ‘আমি ভাগমু না ভাই, আমি ভাগমু না।’ হাত-পা না বাঁধার জন্য এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিলেন সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ হ-ত্যার ঘটনায় অভি-যুক্ত পলাতক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া।

 

সোমবার (৯ নভেম্বর) সিলেট জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। স্থানীয়রা যখন তাকে আটক করে হাত-পা বাঁধ-ছিল, তখন আকবর পালিয়ে যাবে না বলে স্থানীয়দের জানায়।

 

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

 

এদিকে স্থানীয়দের হাতে আকবরের আটক হওয়ার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এসব ভিডিওর একটিতে আকবরকে বসিয়ে রেখে হাত-পা বাঁধছিলেন স্থানীয়রা। এ সময় আকবর বলছিল, ‘আমি ভাগমু না ভাই, আমি ভাগমু না।’

 

তখন স্থানীয়দের একজন তার নাম জানতে চাইলে সে বলে, ‘আমি আকবর।’ তখন স্থানীয়রা বলাবলি করতে থাকে, ‘১০ হাজার টাকার জন্য তুমি মানুষ মারছো’, ‘তুমি রায়হানরে হত্যা করছো’। তবে আকবরকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি মারি নাই, আমি হাসপাতালে নিয়া গেছি’।

 

এ সময় আকবরের বেশভূষা ছিল অনেকটা স্থানীয়দের মতোই। গলায় পুতির মালা, খয়েরি রঙের শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা ছিল সে। খোঁচা খোঁচা দাড়িতে তাকে স্থানীয়দের মতোই লাগছিল।

 

স্থানীয়রা পরে তাকে হাত ও পা বেঁধে হাঁটিয়ে পাহাড় ও জলাভূমি পার করে নিয়ে আসে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে পানির বোতল দেয় এবং যারা তাকে নিয়ে আসছিল তাদের আকবরকে না মারার পরামর্শ দিতেও শোনা যায়।

 

অপর একটি ভিডিওতে আকবরকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি খুনি না, আমি মারিনি। ইচ্ছা করে মারিনি। আমি একা মারিনি, পাঁচ-ছয় জন তাকে মেরেছে। আমি তো হাসপাতালে নিয়া গেছি। সেখানে সে মারা গেছে।’

 

আকবরকে বলতে শোনা যায়, ‘সে (রায়হান) ছিনতাই করেছিল, তাকে পাবলিকে মারছে। আমি তো হাসপাতালে নিয়া গেছি।’

 

এ সময় স্থানীয়রা তাকে প্রশ্ন করে, তাহলে তুমি পালালে কেন। তখন আকবর বলে, ‘আমার দুই সিনিয়র আমাকে বলেছে, যেহেতু সাসপেনশন হয়েছো, আপাতত পালিয়ে যাও। দুই মাস পর ঠান্ডা হলে এসো। তখন বিষয়টা হ্যান্ডেল করা যাবে।’

 

অপর এক ভিডিওতে দেখা যায়, পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় আকবর দাঁড়িয়ে থেকে স্থানীয়দের কাছে আকুতি জানিয়ে বলছে, ‘তোমরা বলো আমাকে মারবা না, বলো ভাই আমাকে মারবা না।’

 

তখন স্থানীয়রা বলতে থাকে, ‘না বসো, তোমাকে মারবো না। তোমার লাখান আমরা মারবো না।’ এ সময় আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘চুপচাপ বসো, নয়তো নিচে ফেলে দেবো’।

 

এদিকে সিলেট পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান জানান, পুলিশের একটি দল তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে। রায়হান হত্যাকাণ্ডের ২৮ দিন পর তাকে গ্রেফতার করা হলো।

 

গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদসরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

 

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

 

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন।

 

মামলাটি পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *