এম. এ মুহিত, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুন) রাত থেকে কুশিয়ারা ডাইক উপছে পানি প্রবেশ করছে। ইনাতগঞ্জ কসবা রাস্তায় প্রায় ৩ ফুট উপর দিয়ে দ্রুত বেগে পানি ঢুকছে। এছাড়া আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউনিয়নের কৈয়ার বিলের বাধঁ ভেঙ্গে দ্রুত পানি প্রবেশ করছে। ফলে নবীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র ভয়াবহ বন্যার আশংখ্যা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ সভা করে গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বালি ভর্তি বস্তা দিয়েও ডাইকের পানি নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না।
বিভিন্ন প্রাপ্ত সুত্রে জানাগেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে নবীগঞ্জে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বাড়ছে পানি। ইতিমধ্যে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী দীঘলবাক ইউনিয়নের গালিমপুর,মাধবপুর,আহমদপুর, মথুরাপুর, কসবা,দীঘলবাক,জামারগাওসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে উঠেছে পানি। অনেকেই ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ে খুঁজে। এখানকার জনজীবন হুমকীর মূখে রয়েছে। উপজেলার সকল হাওরাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নবীগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় জন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
ইতিমধ্যে শুক্রবার রাত থেকে শেরপুর থেকে ইনাতগঞ্জ পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর ডাইক উপছে পানি প্রবেশ করছে। ফাদুল্লা ও জামারগাও এলাকায় নতুন ডাইক দিয়েও পানি প্রবেশ করছে। পানি প্রবেশের ফলে দিঘলবাগ ও ইনাতগন্জের প্রায় সবকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বালি ভর্তি বস্তা দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন।
এদিকে আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউপির কৈয়ার বিলের বাধঁ ভেঙ্গে দ্রুত বেগে পানি প্রবেশ করছে। এতে উপজেলার ১নং ইউনিয়ন বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন সাধারণ মানুষ। ফলে উপজেলার সর্বত্র ভয়াবহ বন্যার আশংকা করছেন সর্ব মহল।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহি উদ্দিন বলেছেন, ইনাতগঞ্জের কসবা এলাকায় এলজিইডি রাস্তায় প্রায় ৩ ফুট উপর দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। কুশিয়ারা ডাইক এখন ভাঙ্গেনি, তবে ডাইক উপছে পানি প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে ১৩ টি আশ্রয়ন কেন্দ্র খোলা হয়েছে। হাইস্কুল, প্রাইমারীস্কুল. কলেজ গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দীঘলবাক ইউনিয়নের গালিমপুর, মাধবপুর বন্যার্তদের মাঝে সরকারি ভাবে ত্রান পৌছানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে সকলকে সর্তকতার সহিত মোকাবেলার আহবান জানিয়েছেন তিনি।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর প্রকৌশলী মিনহাজ আহমদ শোভন বলেছেন, নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর, পারকুল গ্রামে কিছু স্পটে বাঁধের প্রায় ১ ফুট উপর দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। পানি দ্রুত বেড়েই চলেছে। যেভাবে পানি বাড়ছে বস্তা দিয়ে আটকানো হয়তো সম্ভব হবে না। যেকোন সময় সিপেজ হয়ে বাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে। এর মাঝে খোলা জায়গায় একটার পর একটা বজ্রপাত হচ্ছে। তবে তারা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
