মোঃ আজিজুল হক, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের নাগরপুরে গৃহবধূ রোজিনা আক্তার (২১) স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার এবং প্ররোচনায় নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে তার ভাই বাদি হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, তিন বছর পূর্বে গৃহবধূ রোজিনা আক্তারের বিয়ে হয় উপজেলাস্থ রেহাই মীরকুটিয়া গ্রামের মোঃ নওশের আলী মিয়ার ছেলে মোঃ জয়নাল আবেদীন বাবুর সাথে। তাদের দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। আসামি মোঃ জয়নাল আবেদীন বাবু মুন্সিগঞ্জ এলাকায় বালুর নৌকায় কাজ করে। এই সুযোগে গৃহবধূ রোজিনার সাথে পরিবারের সবাই খারাপ ব্যবহার করতো ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতো এবং আসামি বাবুর কাছে নানা বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে তাকে স্ত্রীর প্রতি বিরুপ মনোভাব সৃষ্টি করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতো।
আসামি বাবু কয়েকদিন আগে বাড়িতে আসে ও তার স্ত্রীর সাথে পরিবারের সকলকে নিয়ে বিভিন্ন উপায়ে ঝগড়া বিবাদ শুরু করে। গত ৩০ অক্টোবর রাতে মোবাইল ফোন নিয়ে তর্ক বাধলে বাবুর সাথে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও যোগ দেয় ও বলে এভাবে ঝগড়া করিস কেন ? মরতে পারিস না। এরপর গৃহবধূ মনের কষ্টে ও স্বামীর বাড়ির লোকজনে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সইতে না পেরে নিভৃতে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে জানাজানি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করে।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলম চাঁদ জানান, মৃত গৃহবধূ রোজিনা আক্তারের ভাই আল আমিন বাদি হয়ে থানায় লিখিত দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্ত ১ নং আসামিকে গ্রেফতার করেছে। বাকি অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
